আজকের দিনেতিলোত্তমা

প্রতীক উরের অবস্থান ঠিক কোথায় ?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা – সাম্প্রতিককালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সিপিএমের বিদ্রোহী প্রতীক উর। কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল চলতি মাসের ২০ তারিখের পরই তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন প্রতীক উর। এও শোনা যাচ্ছিল বিভিন্ন মহলে আমতলার সভায় অভিষেকের হাত ধরে তাঁর যোগদান হতে পারে। প্রতীক উররের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে তাঁর মগরাহাটে প্রার্থী হাওয়া নিয়ে অনেক কথা শোনা যাচ্ছিল। সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে প্রতীক উর জানিয়েছেন, মগরাহাটের প্রার্থী পদের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও দাবি তিনি রাখেননি। বরং তিনি শুধু সম্মান আশা করেন। তিনি আরও বলেন পদত্যাগ পত্র প্রকাশ্যে আসার পর প্রায় সব দল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ঠিকই কিন্তু তিনি কোন পথে হাঁটবেন, রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন কিনা, তা সময় বলবে।

অন্যদিকে তিনি জানেন আসন্ন বিধানসভায় মগরহাটা থেকে প্রার্থী হওয়া নিয়ে তাঁকে নিয়ে তুমুল জল্পনা চলছে। কিন্তু সেই জল্পনায় আপাতত জল ঢেলে প্রতীক উর জানিয়েছেন তৃণমূলের কাছ থেকে টিকিট, টাকা, বা পদ নয়, চান শুধু সম্মান। যে সম্মান বাম শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ দীর্ঘদিন তাঁকে দেয়নি। দিনের শেষে তিনি দলের সঙ্গে বেইমানি করেন নি। যতদিন এসএফআই করেছেন তিনি একশো শতাংশ দিয়েছন যখন সিপিএম করেছেন তখনও একশো শতাংশই তাঁর দেওয়া। ফলত তাঁর দিক থেকে কোন বেইমানি তকমা নেই। কিন্তু নিজের উল্টো দিক থেকে কী হয়েছে না হয়েছে, সেটা সময় বলবে, জনগণ বলবে, বাংলার মানুষ বলবেন এমনটাই তাঁর মত।

যদিও তিনি দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে ডায়মন্ড হারবারের মতো কঠিন আসনে একসময়ে নিয়মিত প্রচারে বেরিয়ে মার খেয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে প্রতীক উরেরর অভিমান, মারের দাগ মিলিয়ে যায়, অপমানের জ্বালা জুড়োয় না। যে কেন্দ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়, যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি মার খেয়েছেন, এইবার ঘটনাচক্রে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেখান থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস পতাকা তুলে নিতে চলেছেন। 

নির্বাচনের মুখে এক একটি পা খুব সাবধানতা অবলম্বন করে ফেলতে হবে এতা মাথায় রেখে প্রতি মুহূর্তে রাজ্য বামফ্রন্ট  কাজ করে চলছেন । দলের ‘তরুণ তুর্কি’ প্রতীক উর রহমানকে ধরে রাখতে প্রবীণ বিমান বসু প্রতীকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে মানভঞ্জনের চেষ্টা করছেন বলে খবর আলিমুদ্দিন সূত্রে। সিপিএমের একাংশ চাইছে, প্রতীক উরের মতো তরতাজা, সংখ্যালঘু, সক্রিয় নেতাকে সামনে রেখে ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে। কিন্তু সিপিএমের অন্দরে ‘লবি’ তা আটকে দিচ্ছে বলেও সূত্রের খবর। এহেন জটিল পরিস্থিতিতে প্রতীক উর ঠিক কোথায় যাবেন সেই উত্তর খুঁজছে সবমহল। তবে কৌশলে ধোঁয়াশা জারি রাখছেন এই নেতা।

প্রতীক উররের পাশাপাশি তাঁর সতীর্থদের মধ্যে আরও বেশ কয়েকজন দলবদল করতে চলেছেন বলে যে জল্পনা চলছে সে বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন প্রতীক উর। তবে দলবদলের জন্য তাঁর বেশ কয়েকজন সহকর্মী তাঁকে যেভাবে পরিবার তুলে কথা বলছেন তাতে ব্যথিত প্রতীক উর। এমনই অবস্থা যে কান থেকে মোবাইল ফোনই নামাতে পারছেন না। আপাতত কোনও পার্সোনাল অ্য়াসিস্ট্যান্ট নেই। তাই সব ফোনই তাঁকেই ধরতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকালের মধ্যেই তিনি কোন দলে যাচ্ছেন সেটা স্পষ্ট করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে পারেন বলেও জল্পনা উসকে দিয়েছেন নিজেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *