আজকের দিনেতিলোত্তমা

যুবসাথী ঘিরে সাইবার ফাঁদ, সতর্ক পুলিশ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন জমা নেওয়ার কাজ। অফলাইন ক্যাম্পের পাশাপাশি অনলাইনেও বহু মানুষ আবেদন করছেন। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারকচক্র। তাই সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই সতর্ক করেছে পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা। কোনও অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না, শর্টকাট পথে আবেদন করার চেষ্টা করবেন না এইসব বিষয়ে বারবার সচেতন করছেন তাঁরা।

আবেদন শুরুর প্রথম দিনেই প্রায় পাঁচ লক্ষের মতো আবেদন জমা পড়ে। মানুষের এত উৎসাহ দেখেই প্রতারকেরা ফাঁদ পাতা শুরু করে। তাঁরা ফোন করে বা মেসেজ পাঠিয়ে দাবি করছে খুব দ্রুত টাকা পাইয়ে দেওয়া হবে, আবেদন অনুমোদন হয়ে গেছে, বা বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের সরকারি কর্মী বা ব্লক অফিসের লোক বলেও পরিচয় দিচ্ছে। তারপর তাঁরা বলে টাকা ছাড়ার আগে ভেরিফিকেশন দরকার, আর সেই অজুহাতে ওটিপি চাইছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই জায়গাটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ওটিপি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য এটা কাউকে বললেই আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ব্যক্তিগত তথ্যের দরজা খুলে যায়। সরকারি প্রকল্পে টাকা দেওয়ার জন্য আলাদা করে ফোন করে ওটিপি নেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। তাই কেউ যদি এমন দাবি করে, সেটি নিশ্চিত প্রতারণা।

শুধু ফোন নয়, সোশ্যাল মিডিয়া বা এসএমএসে ভুয়ো লিঙ্ক পাঠিয়েও ফাঁদ পাতা হচ্ছে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলে নকল ওয়েবসাইট খুলে আপনার তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতে পারে। অনেক সময় আবেদন ফি বা প্রসেসিং চার্জের নাম করে টাকা নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে সরকারি প্রকল্পের জন্য ঘুরপথে আবেদন, শর্টকাট বা দালালের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এখন রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভায় ক্যাম্প করে আবেদন নেওয়া হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবেদন চলবে। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনও সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা একেবারেই উচিত নয়। কোনও ফোন বা মেসেজে বিশ্বাস করার আগে সরকারি সূত্র যাচাই করতে বলছে পুলিশ।

সব মিলিয়ে সতর্কবার্তা একটাই অচেনা লিঙ্ক, ফোনে ওটিপি, দ্রুত টাকা পাইয়ে দেওয়ার লোভ এগুলোই প্রতারণার প্রধান অস্ত্র। সচেতন থাকলেই এ ধরনের সাইবার জাল থেকে বাঁচা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *