আজকের দিনেবাংলার আয়না

দেশহীন শৈশবের শেষ অধ্যায়ে ঘরে ফেরার গান

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামছেই না, কিন্তু সেই এসআইআরই যেন আশীর্বাদ হয়ে এল জলপাইগুড়ি-র অনুভব হোমে থাকা তিন নাবালিকার জীবনে। ভারতে জন্ম, এখানেই বড় হয়ে ওঠা তবু এই দেশ তাঁদের নিজের নয়।বাবা-মায়ের মুখে গ্রামের গল্প শুনেছে, কিন্তু কোনওদিন দেখা হয়নি সেই বাড়ি। তাঁদের পরিবারের আসল ঠিকানা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা। পেটের টানে কয়েক বছর আগে কুড়িগ্রাম থেকে বেশ কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা চোরাপথে ভারতে ঢোকেন। বিভিন্ন ইঁটভাটায় কাজ করতে করতে কেউ কেউ সংসার পাতেন এবং সেই সময়ই ভারতে জন্ম হয় তাঁদের সন্তানদের। অনুভব হোমের এই তিন নাবালিকাও তাঁদেরই মধ্যে।

অনুপ্রবেশ আইনের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী ছয় বছরের বেশি বয়সী শিশুদের হোমে পাঠানো হয় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সংশোধনাগারে রাখা হয়। ছয় জন কিশোরকে কোরক হোমে এবং তিন জন কিশোরীকে জলপাইগুড়ি শহরের অনুভব হোমে রাখা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হতেই আতঙ্কে পরিবারগুলি আবার বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করে। সীমান্ত পার হতে গিয়ে দিনহাটায় ধরা পড়েন বাবা-মায়েরা। তাঁদের পাঠানো হয় জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এবং শিশুদের রাখা হয় অনুভব হোমে। হোমের মেন্টর কাউন্সিলর পৌলমি সূত্রধর জানিয়েছেন, শিশুদের কোনও বৈধ নথি ছিল না, ভারতে জন্ম হলেও তাঁরা প্রথাগত শিক্ষা বা পরিচয় পায়নি।
এবার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ায় তাঁদের ফেরানো হবে বাংলাদেশে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁদের পাঠানো হবে।

জেলাশাসক শামা পারভিন জানিয়েছেন, মোট ৯ জন কিশোর-কিশোরীকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সোমবার জলপাইগুড়ি থেকে পেট্রাপোলের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। অনুভব হোম ছেড়ে যেতে হবে বলে মনখারাপ রয়েছে, কারণ এখানে তাঁরা পড়াশোনা, নাচ-গান শিখেছে। তবু আনন্দও কম নয় বাবা-মায়ের মুখে শোনা নিজের দেশের বাড়ি তাঁরা জীবনে প্রথমবার দেখতে চলেছে। হোমের কোঅর্ডিনেটর দীপশ্রী রায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, শিশুদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব যেন নেওয়া হয় এবং তাঁদের পরিবারকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে পেটের তাগিদে আবার অন্য দেশে পাড়ি দিতে না হয়। দেশহীন শৈশবের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে এবার সত্যিই তাঁরা ফিরছে নিজের দেশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *