আজকের দিনেতিলোত্তমাভারত

ভোটার তালিকার মামলা, আজও কি আদালতে মুখ্যমন্ত্রী?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেই দিন শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, আজ সোমবারও কি মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থাকবেন?

গত শুনানিতে এসআইআর ও ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের নজরে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, সামান্য তথ্যগত অসঙ্গতি বা বানানজনিত ত্রুটির কারণে কোনও ভোটারের নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নামের বানান সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

এছাড়াও যাঁদের বিরুদ্ধে ৭ নম্বর ফর্ম জমা পড়েছে, তাঁদের নাম প্রকাশ করার দাবিও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন মেনে তাঁকে নিজে সওয়াল করার সুযোগ দেয়। সেই সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি হয়তো খুব সাধারণ একজন মানুষ। আমি এখানে নিজের জন্য আসিনি, স্যার। আমি এসেছি সাধারণ মানুষের জন্য।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচন কমিশনকে ছ’টি চিঠি পাঠালেও একটিরও উত্তর তিনি পাননি। শীর্ষ আদালতের শুনানি কক্ষে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, এই পুরো প্রক্রিয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। তাঁর বক্তব্য, “এটা আসলে ডিলিশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। গোটা পরিকল্পনাতেই গরমিল রয়েছে।”

শুনানি শেষে আদালতের তরফে নোটিস জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বেঞ্চ জানায়, পর্যাপ্ত যোগ্য অফিসার পাওয়া গেলে মাইক্রো অবজারভারের প্রয়োজন নাও পড়তে পারে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয় নোটিস এড়ানোর দিকেও নজর দিতে বলা হয়।

এদিকে পরবর্তী শুনানির আগেই এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজে মোট ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দেওয়ার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় কৌতূহল এখন এটাই আজকের শুনানিতেও কি মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবীদের সারিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সওয়াল করতে দেখা যাবে? সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে দিল্লিতে উপস্থিত না থাকলেও ভার্চুয়ালি শুনানিতে যোগ দিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *