আজকের দিনেভারত

Budget26-Gen Z : এবারের বাজেট জেন জি মুখী !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রথাগত চাকরির বাইরে গিয়ে বিকল্প পথে উপার্জনের দিকেই ঝুঁকছে জেন জি। সেই বিকল্প পথের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের রিল, ছবি ও ভিডিও বানিয়েই রোজগার করছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে জেন জির জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের ১৫০০টি সেকেন্ডারি স্কুল এবং ৫০০টি কলেজে গড়ে তোলা হবে ‘এবিজিসি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’। এই ল্যাবগুলিতে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিক্স-সহ আধুনিক কন্টেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে। কেবল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনই নয়, ডিজিটাল মিডিয়া সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়াতেও এই ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তবে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা বা সরকারি অনুদানের কোনও ঘোষণা বাজেটে করা হয়নি।

জেন জির বিকল্প আয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে পর্যটন শিল্পের দিকেও নজর দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, দেশের ২০টি পর্যটন কেন্দ্রে ১০ হাজার ট্যুর গাইডকে সরকারি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১২ সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণে যুক্ত থাকবে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম)। পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, আরাকু ভ্যালির মতো পাহাড়ি এলাকায় ট্রেকিং সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি। কর কমানোর ফলে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজও সস্তা হতে চলেছে। ট্র্যাভেল ভ্লগ বানানো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এই সিদ্ধান্ত তাঁদের কন্টেন্টের রিচ ও সুযোগ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ঘোষণার পর বাংলার জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ঝিলাম গুপ্তা বলেন, “নিঃসন্দেহে এটা ভালো খবর। তবে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন একটি স্বাধীন ও মৌলিক কাজ। সেটাকে যদি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে বাঁধা হয়, তাহলে সৃজনশীলতার উপর প্রভাব পড়তে পারে।” অনেকেরই প্রশ্ন, কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মতো কাজে মৌলিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সেটাকে প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনলে কাজের স্বাতন্ত্র্য কতটা বজায় থাকবে?

একই সঙ্গে বাজেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই কমিটি পরিষেবা খাত, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষায় এআই ও অটোমেশনের প্রভাব মূল্যায়ন করবে। ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়বে, কাজের ধরন কীভাবে বদলাবে—সেই বিষয়গুলিও পর্যালোচনা করা হবে। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এআইকে কোনও ‘প্রতিযোগিতার দৌড়’ হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়তে সরকার সংস্কারের পথেই এগোচ্ছে। এটি তাঁর টানা নবম কেন্দ্রীয় বাজেট, যা তাঁকে মোরারজি দেশাইয়ের টানা ১০টি বাজেট পেশের রেকর্ডের আরও কাছে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি আগামী অর্থবর্ষে মূলধনী ব্যয় প্রায় ৯ শতাংশ বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করার কথাও ঘোষণা করা হয়।

পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক বড় ঘোষণা রয়েছে বাজেটে। হুগলির ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত ফ্রেট করিডর, বারাণসী-শিলিগুড়ি রেল করিডর এবং দুর্গাপুরে শিল্প করিডর গঠনের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। দেশজুড়ে সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি হবে, যা বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও তথ্যপ্রযুক্তি হাবকে যুক্ত করবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ খোলা হবে এবং পাঁচটি শিল্পতালুকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বাজেটে জেন জির কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি নির্ভর ভবিষ্যৎ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন এই তিনটি দিককেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *