ভবানীপুরে SIR শুনানি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে সেন্ট জন্স ডাইসেসন গার্লস হাই স্কুলে চলা ভোটার তালিকা সংশোধন শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ মানুষের দাবি, শুনানির সময় তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন নথিপত্র তলব করা হলেও সেগুলি গ্রহণ করার পর কোনও রকম রশিদ বা লিখিত প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে নথি জমা দেওয়ার কোনও প্রমাণ তাঁদের হাতে থাকছে না, যা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ভোটারদের মধ্যে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর অসীম বসু শুনানি কেন্দ্রে যান এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁর অভিযোগ, ভবানীপুর যেহেতু মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র, তাই চক্রান্ত করে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নথিপত্র গ্রহণ করার পর ভোটারদের অবশ্যই রশিদ বা লিখিত প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করে ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তাঁর দাবি।
কাউন্সিলর অসীম বসু নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে চেঁচামেচি করার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর প্রতিবাদের পরই বিএলও ও নির্বাচনী আধিকারিকরা ভোটারদের ফর্মে কোন কোন নথিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে তা লিখে সই ও স্ট্যাম্প দিতে শুরু করেন।
এদিন সাধারণ মানুষকে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে কাউন্সিলর জানান, নির্বাচনী আধিকারিকরা যদি লিখিতভাবে নথিপত্র গ্রহণের প্রমাণ না দেন, তাহলে যেন কেউই ফর্ম জমা না দেন। কারণ, ভবিষ্যতে কোনও প্রমাণ না থাকলে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, তিন দিন ধরে বারবার শুনানির জন্য ডেকে এনে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। অনেকেই নিজেদের কাজকর্ম ছেড়ে শুনানিতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে।
শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলরের চাপের মুখে নির্বাচনী আধিকারিকরা নথিপত্র গ্রহণের লিখিত সই ও স্ট্যাম্প দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এই ঘটনার পর ভবানীপুরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
