আজকের দিনেবাংলার আয়না

জঙ্গলঘেরা রাস্তায় মুখোমুখি ‘বাঘ’! আতঙ্কে সাইকেল ফেলে গ্রামে ছুটলেন বৃদ্ধ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পুরুলিয়ার জঙ্গলঘেরা রাস্তায় বাঘের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের মানবাজার ২ ব্লকের জামতোড়িয়া বিট এলাকার গোলাপাড়া গ্রামে। স্থানীয় এক বৃদ্ধের দাবি, সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি বাঘকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে ৬৫ বছর বয়সি বদনচন্দ্র মাণ্ডি সাইকেলে করে ধানের বস্তা নিয়ে গোলাপাড়া গ্রাম হয়ে সগেডি গ্রাম থেকে বুড়িবাঁধের দিকে যাচ্ছিলেন। জঙ্গলঘেরা উঁচু রাস্তায় সাইকেল থেকে নেমে একটু দাঁড়ানোর সময় আচমকাই তাঁর চোখে পড়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বড় বন্যপ্রাণী।

বদনচন্দ্রের দাবি, প্রাণীটির গলায় লম্বা কেশর ছিল এবং দেখতে বাঘের মতোই। ভয়ে তিনি দু’বার হাততালি দিলে সেই প্রাণীটি জঙ্গলের দিকে ঢুকে যায়। এরপর আতঙ্কে সাইকেল ফেলে তিনি দ্রুত গ্রামে ফিরে এসে বিষয়টি সবাইকে জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও বনদপ্তর। গ্রামবাসীরাও ভিড় জমান। জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও মাটি পাথুরে ও কাঁকরযুক্ত হওয়ায় কোনও স্পষ্ট পায়ের ছাপ পাওয়া যায়নি বলে জানায় বনদপ্তর।

কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাতো জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর বনকর্মীরা এলাকায় যান এবং নজরদারি শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে যাতে বন্যপ্রাণীর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি স্থানীয়দের অকারণে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং কোনও সন্দেহজনক কিছু দেখলে বনদপ্তরকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বৃদ্ধকে নেকড়ে, হায়না, লেপার্ড ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি দেখানো হলে তিনি বাঘকেই চিহ্নিত করেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, গোলাপাড়া জঙ্গল দক্ষিণ বাঁকুড়ার বারোমাইল এলাকার জঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত। তাই ওই বন্যপ্রাণীটি বাঁকুড়া দিক থেকে এসে আবার সেদিকেই চলে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার জিনাত ও তার সঙ্গী কিলা পুরুলিয়ার বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায় ঘোরাফেরা করেছিল। তবে দক্ষিণ বাঁকুড়ার সীমানা লাগোয়া বুড়িবাঁধ এলাকায় এর আগে বাঘের আনাগোনার কোনও পাকা প্রমাণ মেলেনি। ২০২৫ সালে একবার লেপার্ড দেখার দাবি উঠলেও সেই ক্ষেত্রেও বনদপ্তর কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *