কর্তব্যপথে প্রজাতন্ত্র দিবস, ইউরোপের সঙ্গে ভারতের বার্তা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রথা মেনে দিল্লির কর্তব্যপথে অভিবাদন গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি ছিলেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁদের উপস্থিতিতেই অভিবাদন গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এরপর প্রধান অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কর্তব্যপথে পৌঁছন।
সকালে জাতীয় যুদ্ধস্মারকে গিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখান থেকে তাঁরা কর্তব্যপথে আসেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণ এবং বিদেশি অতিথিদের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ।
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবছর কর্তব্যপথের ট্যাবলো প্রদর্শনীতে বিশেষভাবে এই জাতীয় মন্ত্রকে সম্মান জানানো হয়। একাধিক রাজ্যের ট্যাবলোতে বাজানো হয় ‘বন্দে মাতরম’। বাংলার ট্যাবলো ছিল প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ। সেখানে ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতির পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়।
অপারেশন সিঁদুরের পর এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনীর বিশেষ ভূমিকা থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। স্থল, জল ও আকাশ— তিন বাহিনীর সমন্বয়ে সফলভাবে পরিচালিত এই অভিযানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যায় তিন বাহিনীর যৌথ ট্যাবলো। পাশাপাশি ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার আধুনিক ও বিশেষ সামরিক প্রদর্শনী দর্শকদের নজর কাড়ে।
এবছর প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। সেই কারণে কুচকাওয়াজে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিশেষ বাহিনীকেও অংশ নিতে দেখা যায়। ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানান, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁদের উপস্থিতি ভারত ও ইউরোপের যৌথ অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দেয়। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
