Gold Medal : ভুল চিকিৎসায় হাত বাদ, গুরুপূর্ণিমায় সোনা জিতে ‘গুরুপ্রণাম’ দিলীপের। ভারতের ঝুলিতে আরও ২ রুপো !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, স্পোর্টস ডেস্ক:- কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক ঝুলিতে নতুন সংযোজন। গ্লাসগোর ট্র্যাকে প্যারা অ্যাথলিট দিলীপ গাভিট ১০ মিটার টি৪৭-এ সোনা জিতে গুরুকে উৎসর্গ করলেন। একই ইভেন্টে রুপো জিতলেন মহম্মদ বাসিল। লং জাম্পে দুরন্ত কামব্যাক করে রুপো আনলেন মুরলী শ্রীশঙ্করও। বক্সিংয়েও আরও পদক নিশ্চিত ভারতের।
দিলীপের গল্পটা শুধু পদকের নয়। মহারাষ্ট্রের এক প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে জন্ম। খুব ছোটবেলায় ভুল চিকিৎসায় ডানহাত বাদ যায়। চাষ করে কোনওরকমে সংসার চলত। কিন্তু খেলাই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান।
১১ বছর বয়সে কোচ বাজিনাথ কালের চোখে পড়েন দিলীপ। কালে শুধু প্রশিক্ষণই দেননি, নিজের বাড়িতে জায়গা দেন, খাবার দেন। কার্যত দত্তক পুত্রের মতো মানুষ করেন। বৃষ্টিভেজা গ্লাসগোর ট্র্যাকে সেই গুর শিক্ষাই কাজে লাগালেন শিষ্য। ২২ বছর বয়সি দিলীপ ১০.৭১ সেকেন্ডে ১০০ মিটার শেষ করে রেকর্ড সময়ে সোনা জেতেন। ১০.৮৩ সেকেন্ডে ফিনিশ করে রুপো পান মহম্মদ বাসিল। এই প্রথম এই বিভাগে ভারত একসঙ্গে সোনা-রুপো জিতল।
পদক পেয়েই দিলীপ ছুটে যান গুরুর কাছে। বলেন, “উনি আমার গুরুর থেকেও বেশি। আমি ওঁর বাড়িতে থেকেছি, খেয়েছি। ছেলের মতো থাকতাম। উনি আমার বাবা। আজ আমি যা অর্জন করেছি, সব ওঁর জন্য।”
অন্যদিকে লং জাম্পে ৮.০৯ মিটার লাফিয়ে রুপো জিতলেন মুরলী শ্রীশঙ্কর। ২০২২-এর বার্মিংহামেও তিনি রুপো জিতেছিলেন। কিন্তু প্যারিস অলিম্পিকের আগে বড় চোটে কেরিয়ার নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে ফিরে এসে আবারও দেশকে পদক এনে দিলেন তিনি।
বক্সিং থেকেও সুখবর। জসমিন লাম্বোরিয়া, অঙ্কুশ যাদব, সাক্ষী চৌধুরী, অরুন্ধতী চৌধুরী, শচীন সিওয়াচ ও নরেন্দ্র বেরওয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছেন।
এই মুহূর্তে ১৫টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় ভারত রয়েছে অষ্টম স্থানে।
দিলীপের সোনা শুধু গতি আর শক্তির জয় নয়, এটা এক গুরু-শিষ্যের বন্ধনের গল্প। ভুল চিকিৎসায় থেমে যাওয়া জীবন, আর গুর হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে সোনা – কমনওয়েলথ এবার ভারতকে এমনই অনুপ্রেরণার গল্প দিল। মুরলীর কামব্যাক আর বক্সারদের দাপটও দেখিয়ে দিল, ভারতীয় খেলা এখন লড়াইটা জানে।
