আজকের দিনেবিশ্বরাজনীতি

Masoud Pezeshkian : ‘সামরিক চাপে নতি স্বীকার করবে না ইরান’, আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক :- লাগাতার মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ ইরানের। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলিকে নিশানা করছে তেহরান। এই আবহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে না।

ইরান-আমেরিকা সংঘাত এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। রবিবার এক জনসভায় দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান বলেন, “এখন আর কেবল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে আটকে নেই যুদ্ধ। বর্তমানে পুরোদমে যুদ্ধ চলছে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতদিনে স্পষ্ট হয়ে গেছে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানকে বশে আনা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেও তেহরান তার জাতীয় অবস্থান, অধিকার ও নীতি থেকে সরবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়ে পেজেসকিয়ান আরও বলেন, “আজ আমাদের আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংহতি এবং সম্মিলিত প্রজ্ঞার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।”

এদিকে একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রবিবার কুয়েতের ‘আল-সুবিয়া’ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারে হামলা চালায় ইরান। আছড়ে পড়ে একের পর এক ড্রোন। এর জেরেই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারটিতে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢাকে গোটা এলাকা। অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে এই হামলায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জলশোধনাগারটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কুয়েতের সেনাবাহিনীর দাবি, রবিবার দিনরাত দেশটির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। তার মধ্যে অধিকাংশ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাউদ আব্দুল আজিজ আল-ওতাইবি বলেন, “দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।” কুয়েতে তেহরানের হামলার কড়া নিন্দা করেছে ওয়াশিংটন।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন জলপরিশোধনাগার বা ‘ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট’গুলি হল এখানকার ‘জীবনরেখা’। এগুলি সমুদ্রের লবণাক্ত জল পরিশোধন করে পানীয়ের উপযোগী করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে অবস্থিত এই পরিশোধনাগারগুলি এখানকার পানীয় জলের প্রধান উৎস। এই দেশগুলির প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ জল সরবরাহ এই পরিশোধনাগারগুলির উপরই নির্ভরশীল। ফলে এই পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় আকারের জল সংকট তৈরি হতে পারে।

ইরান-আমেরিকা সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো পর্যন্ত পৌঁছেছে। দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছনোর ফলে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধের আতঙ্ক আরও বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *