ABHISHEK BANARJEE : সই জাল মামলায় স্বস্তি অভিষেকের, অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল হাই কোর্টে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- বিধানসভার সই জাল মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ABHISHEK BANARJEE) । কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তৃণমূল সাংসদকে। আগামী ২৩ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। ভোটের ফল প্রকাশের পর গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দলের বিধায়কদের বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। উপস্থিত বিধায়করা হাত তুলে সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানান। তবে বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী যে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা ছিল, তা তখন জমা দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর তাঁরা বিধানসভার নথিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর বিরোধী দলনেতার নাম সংবলিত প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়ার জন্য ১৯ মে আবার কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং অনুপস্থিতদের হিসাবও রাখা হয়। পরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করে একটি প্রস্তাবপত্র বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়।
সেখানেই শুরু হয় বিতর্ক। বিধানসভার নথিতে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে জমা দেওয়া প্রস্তাবপত্রের একাধিক স্বাক্ষরের অমিল ধরা পড়ে। সেই কারণেই জালিয়াতির সন্দেহ প্রকাশ করে বিধানসভার সচিব থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তভার পায় সিআইডি। তদন্ত চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (ABHISHEK BANARJEE) ভবানী ভবনে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি নির্ধারিত দিনে হাজিরা দেননি। পরিবর্তে চিঠি দিয়ে ১৫ দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন। এরপর সিআইডির নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
হাই কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ বহাল থাকলেও তদন্ত থেমে থাকছে না। আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ফলে আগামী ২৩ জুলাইয়ের শুনানির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও তদন্তকারী সংস্থার।
