Gujrat: গুজরাটে বন্যা পরিস্থিতি, জলের তোড়ে ভেঙে গেল সোমনাথ ও পোরবন্দর হাইওয়ের একাংশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- বর্ষার মরশুম শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন রাজ্যের বন্যা থেকে ভূমিধসের আশঙ্কা। এর মধ্যে ভারী থেকে অতি ভারীর বৃষ্টির কবলে রয়েছে মুম্বই, গুজরাট ও ওড়িশা। বাণিজ্যনগরী ও ওড়িশার পাশাপাশি গুজরাটেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। জারি লাল ও কমলা সতর্কতা। স্থানীয় জীবন বিপর্যস্ত। টানা ভারী বৃষ্টিতে সোমনাথ ও পোরবন্দর হাইওয়ের একটি বড় অংশ ভেঙে গেছে। মাংগ্রোলের নোলি নদীর কাছে প্রায় ৪০ ফুট রাস্তা ধসে গিয়েছে। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যান চলাচল বন্ধকরে বিকল্প রুটে গাড়ি ঘোরানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে উদ্ধারকারদল। স্থানীয়দের প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলবর্তী এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে ৪৮টি তালুকায় ১ মিলিমিটার থেকে প্রায় এক ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজ্যটিতে এ পর্যন্ত মৌসুমি গড় বৃষ্টিপাতের ১৩.২৭ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ গুজরাটে মৌসুমি গড় বৃষ্টিপাতের ১৭.১১ শতাংশ, সৌরাষ্ট্রে ১৫.৩৮ শতাংশ, পূর্ব-মধ্য গুজরাটে ১০.৮৭ শতাংশ, উত্তর গুজরাটে ৭.৭৯ শতাংশ এবং কচ্ছে ০.৪০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত তিন দিনে মাংরোলে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে ১০০ শতাংশেরও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪টি তালুকে ৫ থেকে ১০ ইঞ্চি, ৮৫টি তালুকে ১ থেকে ৫ ইঞ্চি এবং ১১৮টি তালুকে ১ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাতের ফলে জলাধারগুলোর জল স্তরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সর্দার সরোবর (নর্মদা) বাঁধের পানির পরিমাণ এর ধারণক্ষমতার ৬৪.১১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে রাজ্যের অন্য ২০৬টি জলাধারের ক্ষেত্রে এই হার ৩৬.০৯ শতাংশ। দশটি বাঁধের পানির স্তর ধারণক্ষমতার ৭০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে এবং ২০টি বাঁধের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ৫০ শতাংশ অতিক্রম করেছে। রাজ্য সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলিতে ১০টি ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF) দল এবং ২৫টি স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF) দল মোতায়েন করেছে। এছাড়া আরও তিনটি NDRF দল ও আটটি SDRF দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জুনাগড় জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বারকা-সোমনাথ জাতীয় মহাসড়কের একাংশ ধুয়ে ভেসে যাওয়ায় রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া মাংরোল তালুকের হোসেনাবাদ গ্রামের কাছে নোলি নদীর ওপরের সেতুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নাভসারি জেলায় অবিরাম বৃষ্টি ও নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বিলিমোরা-আমালসাদ সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতুটি আশেপাশের প্রায় ১১টি গ্রামের জন্য যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ভারুচ জেলায় বন্যা-পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ভালিয়া তালুকায় ভারী বর্ষণের ফলে সিলুদি গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি দ্বীপে পরিণত হয়েছে। ‘স্কুল ফালিয়া’এলাকায় দুটি বাড়ি ধসে পড়ার পর উদ্ধারকারী দল সাতজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে; এদের মধ্যে একজন বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিও রয়েছেন। আগামী আরও কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা, ফলে উদ্ধারকাজ জারি আছে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।
