জোড়া গোলে ত্রাতা হ্যারি কেন, কঙ্গোর রূপকথা থামিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে এসে চমকে দেওয়া কঙ্গোর রূপকথার দৌড় থামিয়ে দিল ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল থ্রি লায়ন্সরা। ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না আফ্রিকার দরিদ্র দেশটির।
এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম চমক ছিল কঙ্গো। প্রথম ম্যাচেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে রুখে দিয়ে নজর কেড়েছিল স্যামুয়েল মুথুস্বামীরা। কলম্বিয়ার কাছে হারলেও উজবেকিস্তানকে হারিয়ে নকআউটের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল তারা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করে কঙ্গো।
ম্যাচের ৭ মিনিটেই ইংল্যান্ড রক্ষণকে স্তব্ধ করে গোল করেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই তাঁর প্রথম গোল। গোল খেয়ে ছন্দ হারায় ইংল্যান্ড। একের পর এক ভুল পাস, বক্সে ঢুকে খেই হারানো, সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসির কাছে বারবার আটকে যান কেন-র্যাশফোর্ডরা। এমপাসি অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচান। ৪৪ মিনিটে কেন পেনাল্টি পেতে পারতেন, তবে রেফারি সাড়া দেননি।
দ্বিতীয়ার্ধেও ইংল্যান্ডের খেলায় গোল শোধের তাগিদ দেখা যায়নি। বরং জুড বেলিংহ্যামদের ভুলের সুযোগ নিয়ে পাল্টা চাপ তৈরি করছিলেন ইয়োহান উইজারা। শেষ ৩০ মিনিটে কঙ্গো আরও আগ্রাসী রক্ষণ শুরু করে।
তখনই টমাস টুখেলের মাস্টারস্ট্রোক। বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনকে নামান তিনি। তারপরের ১৫ মিনিট চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ৭৫ মিনিটে সাকার ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান হ্যারি কেন। ওই গোলেই ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস। এরপর চাপ বাড়িয়ে ৮৯ মিনিটে কেনের দ্বিতীয় গোলে জয় নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।
এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোয় পা রাখল ইংল্যান্ড। টুখেলের ট্যাকটিক্স আর কেনের অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিল। অন্যদিকে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে সবার মন জিতে বিদায় নিল কঙ্গো। পর্তুগালকে রুখে দেওয়া, উজবেকিস্তানকে হারানো আর ইংল্যান্ডকে ৭৫ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখা, এই লড়াই বিশ্বকাপের ইতিহাসে কঙ্গোর রূপকথা হয়ে থাকবে। ফুটবল যে শুধু টাকা বা পরিকাঠামোর খেলা নয়, সাহস আর স্বপ্নেরও খেলা, সেটাই প্রমাণ করল মুথুস্বামীর দল।
