আজকের দিনেতিলোত্তমা

রচনাকে তীব্র কটাক্ষ কল্যাণের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চর্চায় রয়েছেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল এবং নেত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পালটা আক্রমণ শানালেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনাকে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে নজিরবিহীন আক্রমণ করেছেন কল্যাণ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “ওনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে তাহলে এলেন কেন? উনি কি বাচ্চা মেয়ে নাকি?”

“স্বামীর ঠিকাদারির কাজ হয়নি বলেই এত রাগ”

হুগলির সাংসদের দলবিরোধী সুরের নেপথ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “উনি নিজের স্বামীর ঠিকাদারির কাজের জন্য সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজ হয়নি, আর সেই কারণেই নাকি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত রাগ!”

“পার্থ-কেষ্টর কথা ২০২৪-এর আগে জানতেন না?”

সম্প্রতি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘সেলিব্রিটি ইমেজ’ ব্যবহার করেছেন এবং পাশাপাশি তিনি দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সরব হন। এর জবাবে কল্যাণ বলেন, “দিদি ডাকল আর উনি চলে গেলেন? উনি কি বাচ্চা মেয়ে? ২০২৪ সালের আগে উনি জানতেন না যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেষ্ট (অনুব্রত মণ্ডল) গ্রেপ্তার হয়েছেন? আর উনি যদি নিজের মুখটা জেনে-বুঝে ব্যবহার করতে দেন, তাহলে এখন অন্য কারও কী করণীয় আছে!”

তারকা ইমেজের অহংকার চূর্ণ করতে গিয়ে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের উদাহরণ টানেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “একজন সাধারণ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মিতালি বাগকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনে সাংসদ করেছেন। ওনার নামটাই যথেষ্ট, দলের জন্য আর কারও মুখের দরকার পড়ে না।”

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিনয় জীবন নিয়ে তীব্র কটাক্ষ

এখানেই থামেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনার সাংসদ পদ এবং অভিনয় জীবন দুই নিয়েই তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। কল্যাণ বলেন:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: “উচ্চ মাধ্যমিক পাশ তো! এত কথা যে বলছেন, ওনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যা… লোকসভায় এত প্রশ্ন করার ক্ষমতা ওনার আছে নাকি? এতদিন লোকসভায় যা প্রশ্ন করেছেন, সব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে করে দেওয়া হয়েছে।”

  • অভিনয় জীবন নিয়ে খোঁচা: “এত যে কথা বলছেন, ওনার হাতে কটা সিনেমা আছে এখন? মা-কাকিমার রোল ছাড়া তো ওনাকে কেউ আর সিনেমা দেবে না!”

“তারকারাই দলটা শেষ করে দিল”

রচনার মতো দলের বিক্ষুব্ধ লাইনে হাঁটা তারকাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিহ্নিত করেছেন। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রীরামপুরের সাংসদ মন্তব্য করেন, ”এই তারকাদের জন্যই দলটার আজ এই অবস্থা, এরাই দলটাকে শেষ করে দিল।”

সব মিলিয়ে হুগলির সাংসদের মন্তব্যের জবাবে কল্যাণের এই বেনজির আক্রমণ এখন শাসকদলের অন্দরের কোন্দলকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *