বাংলাদেশকে উড়িয়ে সেমির দৌড়ে টিকে রইল ভারত, শেফালির ঝড়ে ১৯ বল বাকি থাকতেই জয়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- টানা দুই জয়ের পর হারের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল টিম ইন্ডিয়া। বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে উড়িয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আশা জিইয়ে রাখলেন হরমনপ্রীতরা। ১৩৭ রানের টার্গেট ১৯ বল বাকি থাকতেই তুলে নিল ভারত।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুতেই দিলারা আখতারকে ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন রেনুকা সিং। পাওয়ারপ্লেতে উইকেট হারালেও প্রাথমিক চাপ সামলে নেন জৌরিয়া ফিরদৌস ও শোভনা মোস্তারি। জৌরিয়া ৩৩ ও শোভনা ২২ রান করে জুটি গড়েন। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা ৩২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। একসময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০৬/৪। মনে হচ্ছিল দেড়শো পার করবে তারা। কিন্তু ডেথ ওভারে রাধা যাদবের স্পিনের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। রাধা ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ১৩৬/৮-এ আটকে দেন। দীপ্তি শর্মা ও পূজা বস্ত্রকারও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে চাপ বজায় রাখেন।
জবাবে ভারতের শুরুটা ছিল একেবারে টি-টোয়েন্টি সুলভ। প্রথম ৩ ওভারেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৩১ রান। স্মৃতি মন্দানা ৬ বলে ৮ করে দ্রুত ফিরলেও অন্য প্রান্তে ঝড় তোলেন শেফালি বর্মা। বাংলাদেশের বোলারদের তুলোধোনা করে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন তিনি। ইয়াস্তিকা ভাটিয়াকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন শেফালি।
কিন্তু শেফালি স্টাম্পড হতেই খেলায় নাটকীয় মোড় আসে। দ্রুত রিচা ঘোষও ১০ রানে ফিরলে হঠাৎই চাপে পড়ে যায় ভারত। মাঝের ওভারগুলোয় বাংলাদেশের স্পিনাররা, বিশেষ করে ঋতু মণি ও নাহিদা আক্তার রানের গতি একেবারে কমিয়ে দেন। ডট বলের চাপে উইকেট হারানোর ভয়ও তৈরি হয়। একটা সময় মনে হচ্ছিল, কম রানের পুঁজি নিয়েও অঘটন ঘটাতে পারে বাংলাদেশ।
ঠিক সেই সময়েই অভিজ্ঞতার ছাপ রাখেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ও জেমাইমা রডরিগেজ। দুজনে মিলে ঠান্ডা মাথায় সিঙ্গেলস নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে সঞ্জিদা আক্তারের ওভারে। ওই ওভারেই জেমাইমা একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ম্যাচের রং পুরো বদলে দেন। চাপ কাটিয়ে ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি। জেমাইমা ২৬ রানে আউট হলেও ততক্ষণে কাজ শেষ। হরমনপ্রীত অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
এই জয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার পাশাপাশি নেট রানরেটেও বড় লাভ হল ভারতের। রাধার ডেথ ওভারের বোলিং, শেফালির ঝোড়ো ইনিংস আর হরমন-জেমাইমার ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিল। বাংলাদেশ মাঝের ওভারে লড়াই দিলেও শেষরক্ষা করতে পারেনি। গ্রুপের শেষ ম্যাচ জিতলেই সেমির টিকিট নিশ্চিত ভারতের।
