আজকের দিনেতিলোত্তমা

ফের বৃহস্পতিবার আদালতের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ মিটলেও কাটেনি আইনি জট। এবার ডিজে মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এই মর্মে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি। আগামী ২৯ তারিখ এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তৃণমূল সাংসদের পাল্টা প্রশ্ন, “আমি তো বলিনি যে ওটা আমার কণ্ঠস্বর নয়, তাহলে তারপরও কেন নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ছে?”

ঠিক কী ঘটেছিল?

গত মে মাসে ছাব্বিশের নির্বাচন চলাকালীন একটি জনসভা থেকে ঝোড়ো প্রচারের মাঝে বেশ কিছু মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের নিশানা করে তিনি বলেছিলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাঁদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব। ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব!” অভিষেকের এই মন্তব্যকে ‘বেফাঁস’ দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বাগুইআটির এক বাসিন্দা। পরবর্তীকালে ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মামলার তদন্তভার যায় রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি-র হাতে।

ভবানী ভবনে তলব ও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সিআইডি অভিযান

তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর এই মামলায় গতি আনে সিআইডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। শুধু তাই নয়, তদন্তের জল গড়ায় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট পর্যন্ত। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোনের বাড়িতেও অভিযান চালায় সিআইডি। সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বোনের মেয়ে অদিতি গায়েনের সঙ্গেও কথা বলেন আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, অদিতিই অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি দেখভাল করতেন।

আইনি সংঘাতের নতুন মোড়

এই তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিআইডি। নিম্ন আদালত গোয়েন্দাদের সেই আবেদন মঞ্জুরও করে। কিন্তু নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তকেই এবার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এখন দেখার, আগামী ২৯ তারিখ হাই কোর্টের শুনানিতে এই কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশের ওপর আদালত কোনো স্থগিতাদেশ দেয় নাকি সিআইডি-র সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *