আজকের দিনেতিলোত্তমা

দমদম বিমানবন্দরে ধুন্ধুমার: “কণ্ঠরোধ করা যাবে না”: অভিষেক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দিল্লি থেকে ফেরার পথে দমদম বিমানবন্দরে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘিরে চরম উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। এই ঘটনায় এবার সরাসরি মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দর চত্বরের এই ধুন্ধুমারের পিছনে বিজেপি নেতৃত্বের গভীর যোগসাজশ এবং পরিকল্পিত হামলার ছক রয়েছে বলেই স্পষ্ট অভিযোগ তাঁর। একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি জানিয়েছেন, কোনও পরিকল্পিত হামলা করে তাঁর কণ্ঠরোধ করা যাবে না।

স্যোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক ভিডিও পোস্ট অভিষেকের, কাঠগড়ায় ‘বিজেপি নেতা’

শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও শেয়ার করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভিডিওতে হলুদ পোশাক পরিহিত এক যুবকের ছবি দেখা যাচ্ছে এবং অভিষেকের পোস্ট অনুযায়ী, ওই যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল!

তৃণমূল সাংসদের দাবি, ভিডিওতে দৃশ্যমান ওই যুবকের নাম উত্তম দাস। দমদমের বাসিন্দা এই উত্তম আদতে একজন বিজেপি নেতা। এখানেই শেষ নয়, অভিষেক আরও দাবি করেছেন, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্রোঞ্জের চিতা হাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের সামনেও যেতে দেখা গিয়েছিল এই উত্তম দাসকে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক লেখেন, এই ঘটনা বিমানবন্দরের মতো অতি-সংবেদনশীল এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। তবে এই ধরণের ভয় দেখিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা যাবে না বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল দমদম বিমানবন্দরে?

উল্লেখ্য, শুক্রবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে কলকাতায় ফিরে আসার কথা ছিল অভিষেকের। কিন্তু তিনি বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার আগেই সেখানে ‘ডিম’ হাতে জড়ো হন একদল বিজেপি সমর্থক। এই খবর ছড়াতেই পালটা সেখানে চলে আসেন তৃণমূল সমর্থকরাও।

দুই পক্ষ মুখোমুখি হতেই প্রথমে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ ও স্লোগান-পালটা স্লোগান। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল মারামারি ও হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। বিমানবন্দরের মতো জায়গায় এমন নজিরবিহীন হট্টগোলে চরম আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষীরা। লাঠি উঁচিয়ে দু’পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ধৃত ব্রাত্য-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলর সহ ৫

বিমানবন্দর থানার পুলিশ এই ঘটনায় রাতেই তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ৫ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম হেভিওয়েট নাম দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু। তিনি দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত। এই গ্রেফতারির পর রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে। ঘটনার পর থেকে দমদম বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *