আজকের দিনেভারত

বাজেটের আগে দিল্লি দৌড় স্বপনের: নির্মলা-লাহিড়ীর সঙ্গে জোড়া বৈঠক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ ২২ জুন। তার আগে বাজেটের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক সারলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের পাশাপাশি নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন তিনি। ঋণের পাহাড় সামলে জনমুখী বাজেট দিতে কেন্দ্রের পরামর্শই ভরসা নবান্নের।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এটাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন। ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। হাতে সময় কম। তাই নবান্নে অর্থ দপ্তরে এখন খসড়া বাজেট তৈরির চূড়ান্ত ব্যস্ততা। এই আবহেই বুধবার সকালে দিল্লি উড়ে যান স্বপন। প্রথম বৈঠকটি হয় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে নর্থ ব্লকে। প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া, জিএসটি ক্ষতিপূরণ এবং নতুন ঋণ নেওয়ার সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। রাজ্যের কোষাগারে লক্ষ কোটি টাকার দেনার বোঝা। তার উপর ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই কেন্দ্রের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বপন। দ্বিতীয় বৈঠকটি হয় নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে। সংসদ মার্গের নীতি ভবনে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা। রাজ্যে শিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ টানার কৌশল নিয়ে পরামর্শ দেন লাহিড়ী। সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যের প্রকল্পের সমন্বয় করে কীভাবে খরচ কমানো যায়, সে বিষয়েও কথা হয়েছে।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “বাংলায় দুর্বল রাজনীতি না করে শক্তিশালী করে তুলতে হবে অর্থনীতিকে। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান আমাদের অগ্রাধিকার। শিল্পের প্রসার করতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে যৌথভাবেই নজরদারি করতে হবে, যাতে একটি টাকাও অপচয় না হয়।”

অন্যদিকে বুধবার ফলতার জনকল্যাণ কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২২ তারিখ বাজেট আছে। বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে। শিল্পের বিকাশ হবে। কৃষকদের বিষয়টিও বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে।” তবে বাজেটের চমক নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে শুধু বলেন, “এখনই কিছু বলব না, ২২ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

ক্ষমতায় আসার পরই শুভেন্দু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এবারের বাজেটে বিশেষ চমক থাকবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই চমক কী হবে তারই ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতেই দিল্লিতে এই জোড়া বৈঠক। কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেলে একাধিক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে বাজেটে।

ঋণ, বেকারত্ব ও শিল্পে খরা—এই তিন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখেই প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে নতুন সরকার। দিল্লির বৈঠক থেকে কতটা আর্থিক সহায়তা ও নীতি-সহায়তা আদায় করতে পারলেন স্বপন দাশগুপ্ত, তার উপরই নির্ভর করছে বাজেটের চমকের মাত্রা। ২২ জুন বিধানসভায় সেই উত্তর মিলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *