হরমুজ প্রণালী এবার খুলে দেবে ইরান! গোটা বিশ্বে ফিরে আসবে স্বস্তি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে ইরান। ফলে দেশে বিদেশে তেলের আমদানি রফতানি বাড়বে। আগামী শুক্রবারই সুইৎজারল্যান্ডে ইরান-আমেরিকার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর পর অনিশ্চয়তা কাটবে বলেই মনে করা হচ্ছে। একগুচ্ছ শর্তের মাধ্যমে এই চুক্তি সম্পন্ন হবে দুই দেশের মধ্যে এমনটাই জানা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশের যুদ্ধ বন্ধ হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। হরমুজ থেকে অবরোধ তুলবে আমেরিকা। ইরানও হরমুজ খুলে দেবে। ইরানের জাহাজের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়া হবে। ইরানের বাজেয়াপ্ত ২৪ মিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া সহ তিরিশদিনের মধ্যে ইরানের আশেপাশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইরান পরমাণূ অস্ত্র তৈরি করবে না। হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই যায়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লেই তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরবে। এশিয়া, ইউরোপ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বহু দেশ তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইরান যদি প্রণালীতে চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হবে। একই সঙ্গে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও কিছুটা কমতে পারে।
তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ, আঞ্চলিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ওপরই নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি। তাই বিশ্বের নজর এখন এই কৌশলগত জলপথ এবং ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
