Court-Assembly : বিধানসভায় ‘আসল বিরোধী’ কে? ফ্লোর টেস্ট ছাড়া সিদ্ধান্ত কীভাবে, অধ্যক্ষকে প্রশ্ন আদালতের !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের কোন শিবির বিধানসভায় ‘আসল’ বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে, সেই প্রশ্নে ঝুলছে নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। ফ্লোর টেস্ট না করে অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু কীভাবে ঋতব্রত-শিবিরকে বিরোধী দলের স্বীকৃতি দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ বুধবার ফের শুনানি।
১৮ জুন বাজেট অধিবেশনের আগে বিরোধী দল নিয়ে জটিলতা তুঙ্গে। অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়ায় সেই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলে আদালতে মামলা করেছে মমতা-শিবির। মঙ্গলবার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের প্রশ্ন, “অধ্যক্ষ ঘরে বসে কীভাবে জানলেন বিরোধীদের কোন পক্ষে বেশি লোক আছে? অধিবেশন না ডেকে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কি ক্ষমতা আছে?”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নেতা করে বিরোধী দলের মর্যাদা চেয়ে চিঠি দেন। এরপর সই জালের অভিযোগ সামনে আসে। ঋতব্রত-শিবির ৫৮ বিধায়কের সই জোগাড় করে আলাদা ব্লক গড়ে দাবি জানায়, তারাই আসল বিরোধী দল। সেই ভিত্তিতে অধ্যক্ষ তাদের স্বীকৃতি দেন।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, “বিরোধী দলের মধ্যেই দ্বন্দ ছিল। অধ্যক্ষ রাবার স্ট্যাম্প হতে পারেন না। তৃণমূলের পাঠানো তালিকায় বিধায়কদের সই ছিল না, ব্লক লেটারে নাম লেখা ছিল।” পাল্টা বিচারপতির প্রশ্ন, “একই দলের দুটি পক্ষ প্রস্তাব দিলে অধ্যক্ষের কাজ কী? আইনে কী আছে? অধ্যক্ষ কি স্বতঃপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?”
এদিকে বিধানসভার সর্বদল বৈঠকে ঋতব্রত-শিবিরকে নিয়ে বিজেপির টিপ্পনিও তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত প্রশ্ন করেন, “আপনাদের দলের নাম কী হল তাহলে?” জবাবে শেক্সপিয়র কোট করে ঋতব্রত বলেন, “নামে কী বা আসে যায়।” পরিষদীয়মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ কংগ্রেস, সিপিএম, আজুপ, আইএসএফের নাম করলেও তৃণমূল বা ঋতব্রতর নাম মুখে আনেননি। মমতা-শিবিরকে বৈঠকেই ডাকা হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ফ্লোর টেস্ট ছাড়া অধ্যক্ষের একতরফা সিদ্ধান্ত আইনসিদ্ধ কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ঋতব্রতর দাবি, “ফ্লোর টেস্ট হোক। তাতেই দুধ কা দুধ-পানি কা পানি হয়ে যাবে।” বাজেট অধিবেশনের মুখে বিরোধী দলের মর্যাদা নিয়ে এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ফয়সালা কার হাতে, আদালত না বিধানসভার ফ্লোর, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
