আজকের দিনেভারত

Delhi Police : দিল্লিতে বড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, ধর্মগুরুদের টার্গেট করা ISI-মদতপুষ্ট ৭ জঙ্গি গ্রেফতার !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- রাজধানীতে ফের বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। ISI-এর মদতে চলা আন্তর্জাতিক জঙ্গি-অপরাধ চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্মগুরু, জনবহুল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল নিশানায়। উদ্ধার ৫টি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল, ৪১ রাউন্ড কার্তুজ ও পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ।

পুলিশ সূত্রে খবর, পাকিস্তানের গ্যাংস্টার-থেকে-জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টি এবং তার সহযোগী আজমল গুজ্জরের নির্দেশেই চলছিল গোটা পরিকল্পনা। দিল্লি-এনসিআরে অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান, গুপ্তচরবৃত্তি ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল চক্রটি। গত মে মাসে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে নজরদারি শুরু করে স্পেশাল সেল। প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে ধীরে ধীরে গোটা নেটওয়ার্কের হদিশ পায় পুলিশ। তারপর একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আনাস ওরফে আনাস ত্যাগী (২৬), মোহিত ওরফে যোগী (২৬), দীপক ওরফে দীপক আগরোলা, আরিফ ওরফে প্রধান, করণবীর সিং যতন ও সাবির-সহ ৭ জনকে। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই খুন, ডাকাতি, অস্ত্র আইন ও মাদক পাচারের পুরনো মামলা রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাঞ্জাবে পাঠানো হত অস্ত্র, গুলি এবং হেরোইনের চালান। আনাস এবং করণবীর সিং-সহ কয়েকজন সদস্য নিয়মিত পাঞ্জাবে গিয়ে সেই চালান সংগ্রহ করে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে পৌঁছে দিত। তদন্তকারীদের দাবি, শাহজাদ ভাট্টির নির্দেশে অভিযুক্তরা দিল্লি-এনসিআরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ধর্মীয় নেতাদের গতিবিধির রেকি করেছিল। সেই সব জায়গার ছবি ও ভিডিও তুলে পাকিস্তানে পাঠানো হত। এর উদ্দেশ্য ছিল ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়া।

অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে ৫টি অত্যাধুনিক সেমি-অটোমেটিক পিস্তল, ৪১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭টি মোবাইল ফোন, একটি স্করপিও গাড়ি ও একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য। মোবাইল ফোনগুলিতে পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে কথোপকথন, ভয়েস নোট এবং চ্যাটের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শাহজাদ ভাট্টি ও আজমল গুজ্জর সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে ভারতীয় যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। প্রথমে মোটা টাকার লোভ দেখানো হত। এরপর ধীরে ধীরে তাদের অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান, রেকি এবং অন্যান্য বেআইনি কাজে জড়িয়ে ফেলা হত। পুলিশের দাবি, প্রথমে সাধারণ অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকজন যুবক পরে ধীরে ধীরে জঙ্গি নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে ওঠে।

সময়মতো অভিযান চালিয়ে বড়সড় রক্তক্ষয় এড়াল দিল্লি পুলিশ। ISI-মদতপুষ্ট এই চক্র ভাঙতে পারলেও তদন্তকারীদের আশঙ্কা, সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও সক্রিয় পাক হ্যান্ডলাররা। ধর্মগুরুদের টার্গেট করে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরির ছক রুখে দেওয়া গেলেও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত চলছে, আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *