আজকের দিনেতিলোত্তমাভারতরাজনীতি

কল্যাণের বহিষ্কার চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলির

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,  নয়াদিল্লি: ছাব্বিশের রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এবার তৃণমূল ও সদ্য NCPI দলের সদস্যের মধ্যে জোর বাদানুবাদ। যা নজিরবিহীন। দলেরই প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভায় নারীবিদ্বেষী আচরণ এবং মহিলা সাংসদদের লাগাতার হেনস্তা করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শ্রীরামপুরের সাংসদকে লোকসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে সরাসরি স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। বসে নেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও,  পালটা কাকলিকে ‘নারদ ও সিন্ডিকেট’ মনে করিয়ে দিয়ে সুর চড়িয়েছেন তিনিও। সব মিলিয়ে সংসদের অন্দরে দুজনের এই সংঘাত এখন রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

‘নারীবিদ্বেষী ও সংসদীয় আচরণের পরিপন্থী’, তোপ কাকলির। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অত্যন্ত কড়া ভাষায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণের নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ,  কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু তাঁকেই নন, সংসদের অন্যান্য মহিলা সাংসদদের প্রতিও বার বার ‘আপত্তিকর ও অসম্মানজনক’ মন্তব্য করেছেন।

​চিঠিতে বারাসতের সাংসদ লিখেছেন, “তিনি বারবার আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। নারীবিদ্বেষী কথা বলেছেন। তাঁর ব্যবহার সংসদীয় আচরণের পরিপন্থী। সংসদে এমন কিছু কথাবার্তা বলা হয়, যার ফলে মহিলা সাংসদরা সেখানে বসতে অস্বস্তিবোধ করেন।”

কাকলির দাবি, শ্রীরামপুরের সাংসদের এই আচরণ লোকসভার ৩৪৯ ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং সংসদের অবমাননার শামিল। এই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপসহ বহিষ্কারের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেও কল্যাণের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তুলে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন কাকলি।

​পালটা ‘নারদ ও সিন্ডিকেট’ খোঁচা কল্যাণের

​কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বিস্ফোরক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য বিন্দুমাত্র নরম মনোভাব দেখাননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। উলটে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এর জবাব দিয়েছেন তিনি।

​শ্রীরামপুরের সাংসদ নিজের সংসদীয় রেকর্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক  পদে ছিলাম। মাঝে কেবল কয়েক মাস ছিলাম না। উনি কীভাবে এই ধরনের কথা বলছেন?” এর পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে কল্যাণ বলেন, ওঁর মুখে এই সব কথা মানায় না। প্রসঙ্গ টেনে তিনি কাকলিকে ‘নারদ কেলেঙ্কারি’ এবং ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়ে সরাসরি খোঁচা দেন।

 

​সংসদের নিয়মানুযায়ী স্পিকার ওম বিড়লা এই চিঠির ভিত্তিতে কল্যাণের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত কমিটি গঠন করেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *