ডিজে মন্তব্যের জের: এবার সিআইডি দপ্তরে হাজিরা অভিষেকের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: তদন্তকারী সংস্থার যেন আর পিছু ছাড়ছে না! নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি জেরার পর, এবার নির্বাচনী প্রচারে ‘ডিজে বাজানো’ মন্তব্যের জেরে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের ঠিক ২ মিনিট আগে, দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিটে ভবানীভবনে প্রবেশ করেন তিনি। বিধানসভায় সই জাল মামলা এবং ইডি জেরার পর, এই নিয়ে পরপর তিনদিন একাধিক মামলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হলো ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানীভবনে অভিষেক
এদিন বেলা ১১টা ৪৫ নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বের হন অভিষেক। ঠিক দুপুর ১২টা বাজার ২ মিনিট আগে তিনি পৌঁছান সিআইডি সদর দপ্তর ভবানীভবনে। হাইপ্রোফাইল এই জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভবানীভবন চত্বরে নিরাপত্তা ছিল আঁটসাঁট। মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল পুলিশ বাহিনী।
কী সেই ‘ডিজে বিতর্ক’?
ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপের মাঝেই আইনি বিপাকে পড়েন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। ভোটপ্রচারের জনসভা থেকে বিজেপির উদ্দেশে বেশ কিছু চড়া সুর শোনা গিয়েছিল অভিষেকের গলায়। তিনি মন্তব্য করেছিলেন— “৪ মে-র পর তৃণমূল ফের বাংলার ক্ষমতায় আসবে এবং তখন বিজেপি বাড়ির সামনে ডিজে বাজানো হবে, কান ঝালাপালা হয়ে যাবে।”
তৃণমূল শিবিরের একাংশ একে রাজনৈতিক রসিকতা বলে দাবি করলেও, বিরোধীরা বিষয়টিকে তীব্র হুঁশিয়ারি ও উস্কানিমূলক হিসেবেই দেখছে। এই বাচনভঙ্গি ও শব্দচয়নের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথমে বিধাননগর সাইবার থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। পরবর্তীকালে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। গত শুক্রবারই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে সমনের নোটিশ দিয়ে এসেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সমনে সাড়া দিয়েই আজ ভবানীভবনে আসেন তিনি।
তৈরি প্রশ্নমালা, হতে পারে বয়ান রেকর্ড
সিআইডি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, তৃণমূল সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ প্রশ্নমালা তৈরি করেছেন আধিকারিকরা। একাধিক অফিসারের একটি দল এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সওয়াল করতে পারেন। এই মামলার তদন্ত কোন পথে এগোবে, তা নির্ধারণ করতে এদিন তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
ভোটের মুখে তপ্ত রাজনীতি
রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের ভোটের মুখে অভিষেকের ওপর তদন্তকারী সংস্থাগুলির এই লাগাতার চাপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে বিধানসভায় সই জাল মামলার তদন্তে সিআইডি এবং সোমবারই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার মুখোমুখি হওয়া রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
