আজকের দিনেতিলোত্তমা

পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অনুষ্ঠানে একমঞ্চে ফিরহাদ-কাজরীরা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী থাকলো কলকাতা পুরসভা। রাজ্যের প্রশাসনিক পালাবদলের পর কাজের স্বার্থে যেন উধাও সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ। সোমবার দুপুরে কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে একমঞ্চে শামিল হলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে কাউন্সিলররা। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যা তথা তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেল অনুষ্ঠানের একেবারে প্রথম সারিতে।

​প্রথমবার পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, আমন্ত্রিত সকলেই
​সোমবার কলকাতা পুরসভায় ‘স্বচ্ছ অভিযান’ কর্মসূচির সূচনা করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পুরসভায় এটিই ছিল তাঁর প্রথম আগমন। এই উপলক্ষে দলমত নির্বিশেষে পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলরদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এদিন হাজির হন প্রায় সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলর। মঞ্চের প্রথম সারিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই দেখা যায় সদ্যপ্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মালা রায়কে। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীম বসু এবং জুঁই বিশ্বাসের মতো তৃণমূলের একঝাঁক পরিচিত মুখ।

“রাজনীতি নয়, কাজই আসল”, বার্তা কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের
​অনুষ্ঠানের প্রথম সারিতে বসা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকদের কৌতুহল ছিল তুঙ্গে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক ভঙ্গিতে বলেন,
​“কাউন্সিলর হিসেবে যেটুকু সময় মেয়াদ বাকি আছে, সেই সময়টায় কাজ যাতে ভালোভাবে হয়, তার জন্যই আমাদের ডাকা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের ডেকেছেন, এটা দেখে খুব ভালো লাগছে।”
​তবে রাজনৈতিক সৌজন্যের আবহ থাকলেও সমসাময়িক বিতর্কিত প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডির ঘনঘন তলব নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে, একগাল হেসে কাজরী বলেন, “এ নিয়ে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।”

একসুরে তৃণমূল কাউন্সিলররা
​শুধু কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়দের গলাতেও শোনা গেছে একই সুর। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, পুরসভায় নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনা ও পরিকল্পনা জানতেই তাঁরা আজকের এই অনুষ্ঠানে এসেছেন। এর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক রঙ খোঁজা উচিত নয়।
​রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় চেনা রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে কলকাতা পুরসভার এই ছবি এক ভিন্ন বার্তা দিল। নাগরিক স্বার্থে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই মেলবন্ধন ‘বদলের বাংলায়’ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *