Rebel Trinamool MP : NCPI-তে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদ, কেন এই সিদ্ধান্ত ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- তৃণমূল ছেড়ে ত্রিপুরার ‘NCPI’ বা Nationalist Citizens Party of India-তে যোগ দিচ্ছেন দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। রবিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের পর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনি জটিলতা এড়াতেই ৪ বছরের পুরনো এই দলে মিশে এনডিএ শিবিরে সামিল হচ্ছেন কাকলি, শতাব্দী, দেব, সায়নীরা।
রবিবার সকালেই দিল্লি পৌঁছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠকে বসেন তৃণমূলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। বৈঠকে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব ওরফে দীপক অধিকারী, সায়নী ঘোষ, মিতালি বাগ, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, মালা রায়, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী-সহ অন্যরা।
বৈঠকের পরই লোকসভার স্পিকারের বাসভবনে যান বিদ্রোহী সাংসদরা। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে তৃণমূল ছেড়ে সরাসরি বিজেপিতে না গিয়ে ত্রিপুরার NCPI-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় রেজিস্ট্রেশন হওয়া Nationalist Citizens Party of India মূলত অসম, ত্রিপুরা ও বাংলায় কাজ করে। এনডিএ-র সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
এ খবরের সত্যতা স্বীকার করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “হ্যাঁ, আমরা NCPI-তে যোগ দিচ্ছি।” ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ২০ জন সাংসদ।
কারা এই NCPI?
Nationalist Citizens Party of India একটি ছোট দল। রেজিস্ট্রেশন থাকলেও রাজনীতিতে পরিচিত নাম নয়। মূলত সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। ভোটে লড়ার ইতিহাসও নেই বললেই চলে। ২০২৩ সালে ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে ঊনকোটির কৈলাশহর থেকে জাহাঙ্গির আলি নামে এক প্রার্থী NCPI-এর টিকিটে লড়ে খুব কম ভোট পান।
কেন NCPI?
সূত্রের খবর, তৃণমূলের স্বতন্ত্র শাখা বা ‘আসল তৃণমূল’-এর মান্যতা পেলে আইনি জটিলতা থাকত না। কিন্তু রবিবার বিকেলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা দুই সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি নিয়ে স্পিকারের কাছে যান। চিঠিতে আর্জি জানানো হয়, দলের কোনও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। ফলে আইনি জটিলতার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এরপরই বাংলার রাজনীতির সঙ্গে খাপ খায় এমন দল হিসেবে NCPI-এর নাম উঠে আসে।
তৃণমূলের ২০ সাংসদের NCPI-তে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। চার বছরের অপরিচিত দলকে সামনে রেখে এনডিএ শিবিরে যাওয়ার এই কৌশল দলত্যাগ বিরোধী আইনকে পাশ কাটানোর চেষ্টা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামীকাল স্পিকারের কাছে আলাদা ব্লকের আবেদন এবং NCPI-তে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর লোকসভায় শাসক-বিরোধী সমীকরণ বদলে যেতে পারে। এখন দেখার, মমতা-অভিষেক শিবির কী পাল্টা পদক্ষেপ করে।
