Egg Therapy : ডিম থেরাপি’ নিয়ে বিতর্ক: অপরাধী হলেও আইন হাতে তুলে নেওয়া গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশে উঠে আসছে ‘ডিম থেরাপি’। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি জেল থেকে বেরোনো, থানা বা কোর্ট চত্বরে হাজিরা দিতে আসা অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু অভিযুক্ত হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
রাজ্যে সাম্প্রতিককালে একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত নেতারা জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার সময়, থানা থেকে বেরোনোর মুহূর্তে কিংবা আদালত চত্বরে হাজিরা দিতে এলে তাঁদের দিকে ডিম ছোড়া হচ্ছে। জনতার একাংশের বক্তব্য, এরা অপরাধী তাই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রে ‘অপরাধী’ তকমা দেওয়ার একমাত্র অধিকার আদালতের। বিচারের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে তার ওপর বলপ্রয়োগ বা হেনস্থা করা আইনের শাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। এই সংস্কৃতি তিনটি বড় সমস্যা তৈরি করছে। প্রথমত, সহনশীলতার অভাব। বিচারাধীন বিষয়ে জনতার রায় দিয়ে দেওয়া এবং শাস্তির ব্যবস্থা নিজের হাতে তুলে নেওয়া বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার জন্ম দেয়। দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলার অবনতি। কোর্ট চত্বর বা থানার সামনে এই ধরনের ঘটনা পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়। তৃতীয়ত, গণতন্ত্রের সংকোচন। কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলেও তার শাস্তি দেওয়ার একমাত্র অধিকার আইনের। ভিড়ের বিচার বা ‘ডিম থেরাপি’ চলতে থাকলে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি—আইনের শাসন—ভেঙে পড়বে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধীদের প্রতি ক্ষোভ স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ক্ষোভ প্রকাশের পথ সহিংস হতে পারে না।
অভিযুক্তরা অপরাধী হলেও তাদের বিচার করবে আদালত, শাস্তি দেবে আইন। জনতার হাতে উঠে আসা ‘ডিম থেরাপি’ আপাতদৃষ্টিতে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা আইনের শাসন ও গণতন্ত্রকেই দুর্বল করে। তাই দলমত নির্বিশেষে সব পক্ষেরই উচিত এই প্রবণতার বিরোধিতা করা। প্রশাসনকেও নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোর্ট চত্বর, থানা বা জেল গেটে কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা না ঘটে। বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখাই সুস্থ গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত।
