আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

Shawkat Mollah : ‘‘মাছ চোর’ থেকে ‘ডান হাত’ – এনআইএ-র জালে ক্যানিংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- রেজ্জাক মোল্লার শিষ্য থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন। ২০১০ সালে মমতার উপর হামলার মামলায় অভিযুক্ত থেকে ২৬ জন পুলিশের জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া নেতা। মাছ ব্যবসায়ী থেকে বিধায়ক – শওকত মোল্লার উত্থান সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। ২০২৬-এর ভোটের আগে ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে এবার এনআইএ-র জালে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক।

রাজনীতির হাতেখড়ি সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লার হাত ধরে। ২০০৮ সালে সিপিএমের জোনাল কমিটির সদস্য হন শওকত। ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও হন। রেজ্জাকের ‘কোর গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন তিনি।

২০১০ সালে জীবনতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় হামলার ঘটনায় নাম জড়ায় শওকতের। মামলাও রুজু হয়। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলে যোগ দেন। বিরোধীদের অভিযোগ, এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি চাপা পড়ে যায়।

২০১৩ সালে ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক পাইক খুনের পর ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি হন শওকত। সেখান থেকেই মমতা-অভিষেকের গুডবুকে চলে আসেন। ২০১৬ সালে ক্যানিং পূর্ব থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বোমা-গুলির লড়াইয়ে রক্তাক্ত হয় তাঁর এলাকা।

২০১৯ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি ও পরে জেলার সাধারণ সম্পাদক হন। ২০২১ সালে ফের বিধায়ক হন। ভোট পরবর্তী হিংসায় বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাটের একাধিক অভিযোগ ওঠে। এরপর সাতগাছিয়া ও ভাঙড়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব পান। বিধানসভার একাধিক স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হন। ২৬ জন পুলিশের জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন।

ভাঙড়ের ভোজেরহাটের সভা থেকে মমতা বলেছিলেন, “আমি বাঁ হাত হলে শওকত আমার ডান হাত। দরকার হলে আমার সিকিউরিটি তুলে শওকতকে দেব।” সোশাল মিডিয়ায় ‘মাছ চোর’ গানে ভাইরাল হন তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল তাঁকে ভাঙড় কেন্দ্রে প্রার্থী করে। আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকীর কাছে হেরে যান শওকত। ভোটের পরেই ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নাম জড়ায় তাঁর।

গত পঞ্চায়েত ভোটেও ভাঙড়ের খুনের ঘটনায় শওকতকে কাঠগড়ায় তুলেছিল আইএসএফ। দলের ভিতরেও তৈরি হয়েছিল বিরোধী গোষ্ঠী। এবার এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক। আদালত ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৬-এর ভোটের আগে শওকত-কাণ্ডে নতুন করে প্রশ্নের মুখে তৃণমূলের অন্দরমহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *