আজকের দিনেতিলোত্তমা

আক্ষেপের সুরে মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ, ছোট লালবাড়ি হাতছাড়া তৃণমূলের!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- বিধানসভা ভোটে তৃণমূলে ভরাডুবির পর থেকেই কলকাতা পুরসভায় চলছিল ডামাডোল। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে তিনি জানালেন, “ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার হয়ে চেয়ার আঁকড়ে থাকতে পারি না।” এর ফলে কলকাতা পুরসভাও হাতছাড়া হল তৃণমূলের।

আজ শুক্রবার কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। ইস্তফার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ফিরহাদ হাকিম কেউ নয়। যে চেয়ারটায় প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিরা বসেছেন তার একটা সম্মান আছে। মানুষ প্রচুর যাঁরা আসতেন, তাঁদের রিলিফ দেওয়ার কাজ করেছি। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেই চেয়ারটাকে অবমাননা করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকব, অথচ ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার। তাই আমি ঠিক করেছি। ইস্তফা দিলাম।” তিনি আরও যোগ করেন, “আগামিদিনে যাঁরা পুরসভা চালাবেন, তাঁরা আমার থেকেও হয়তো ভালো কাজ করবেন। হয়তো লোকে আমাকে ব্যঙ্গ করবেন, সমালোচনা করবেন। কিন্তু স্বচ্ছভাবে পুরসভা চালিয়ে মানুষকে পরিষেবা দেওয়া সহজ কাজ নয়। হয়তো এখন চেয়ারের মর্যাদা রাখতে পারছি না। তাই আমাদের নেত্রীর কাছে ইস্তফা চেয়েছিলাম। উনি বলেছেন, ঠিক আছে।”

২০১৮ সাল থেকে কলকাতা পুরসভার ৩৮তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ফিরহাদ। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে মন্ত্রিত্বও সামলেছেন তিনি। তবে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই পুরসভায় অস্থিরতা তৈরি হয়।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন ফিরহাদ। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চা পানের প্রস্তাব দেন তিনি। এতেই নাকি বিরক্ত হন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকেই দলনেত্রীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে ফিরহাদের। সেই ‘অভিমান’ থেকেই মেয়র পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বরাবরের লড়াকু রাজনীতিক ফিরহাদ এবারও চেতলা কেন্দ্র থেকে জয় পেলেও দলের বিপর্যয়ের মাঝে আর দায়িত্বে থাকলেন না।

ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার ফলে কলকাতা পুরসভা আপাতত তৃণমূলের হাতছাড়া হল। আপাতত পুরসভা চালাবেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। পরে রাজ্য চাইলে প্রশাসক বসাতে পারে। ডিসেম্বরে পুরভোট হওয়ার কথা থাকলেও, এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভোট এগিয়ে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রায় ৮ বছর পর মেয়রের চেয়ার ছাড়লেন ফিরহাদ। তাঁর এই আক্ষেপের ইস্তফা কলকাতার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *