এবার কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, ২২,৭০০ কোটির প্রকল্পের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- কলকাতাবাসীর জন্য সুখবর। কেরলের কোচির পর এবার খোদ তিলোত্তমাতেই চালু হতে চলেছে অত্যন্ত আধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’ পরিষেবা। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জলপথে যাতায়াতের ভোলবদল করতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই উপযুক্ত পদক্ষেপ শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
প্রথম দফায় ১৮টি শহরের তালিকায় কলকাতা
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতের ১৮টি শহরে এই ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় গুয়াহাটি, শ্রীনগর, পাটনা, বারাণসী, অযোধ্যা ও প্রয়াগরাজের পাশাপাশি তেজপুর ও ডিব্রুগড়ে এই পরিষেবা চালুর কথা রয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো কলকাতাও।
সাগরমালা-২ প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ: ২২,৭০০ কোটির বরাদ্দ
শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার অবকাঠামো ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পে যোগ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। সাংবাদিক বৈঠকে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকারের অনিচ্ছা এবং অপদার্থতার কারণে রাজ্যে সাগরমালা-১ প্রকল্প রূপায়ণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ‘সাগরমালা ২’-এর অধীনে এবার রাজ্যে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হবে।”
জেটি সংস্কার ও গঙ্গাসাগরের আন্তর্জাতিকীকরণ
জলপথের পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী:
-
নতুন জেটি নির্মাণ: রাজ্যে মোট ৪৪টি জেটি তৈরি করা হবে। এর মধ্যে জাতীয় জলপথের জন্য ২৫টি জেটি তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
-
ঘাটের সৌন্দর্যায়ন: কলকাতার বাগবাজার, আহিরীটোলা, শোভাবাজার, মল্লিকঘাট, রামকৃষ্ণঘাট এবং বাঁধা ঘাটের মেরামত ও সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আসন্ন দুর্গোৎসবের মধ্যেই এই কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
গঙ্গাসাগর মেলার উন্নয়ন: গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে নতুন সরকার। কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন সৈকত এলাকার পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন করা হবে।
দাদনপাত্রঘাটে গভীর সমুদ্র বন্দর
তাজপুর বন্দর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে বন্দর গড়ার মতো পর্যাপ্ত জমি রাজ্যের হাতে নেই এবং কোনো পরিকাঠামোও তৈরি করা হয়নি। তাই তাজপুর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রঘাটে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করার নতুন ঘোষণা করেন তিনি। সেখানে রাজ্যের হাতে প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার জমি রয়েছে, যার ফলে সহজেই বন্দর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও নতুন দপ্তর
কলকাতা বন্দর এলাকায় জমি দখল এবং যেকোনো ধরণের বেআইনি কাজকর্ম রুখতে রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, কাজের সুবিধার জন্য রাজ্যে ‘পরিবহণ’ ও ‘শিপিং’ দপ্তর দুটিকে সম্পূর্ণ আলাদা করার ঘোষণাও করেছেন তিনি।
