সরকার বদলাতেই নন্দনে ‘অপরাজিত’! ৫ই জুন রি-রিলিজ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বিনোদন ডেস্ক : ২০২২ সালে ছবি মুক্তির পর থেকেই শুরু হয়েছিল নন্দন বিতর্ক। বামপন্থী পরিচালক অনীক দত্তর তৈরি এবং সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণের নেপথ্য কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত কালজয়ী ছবি ‘অপরাজিত’ তৎকালীন মমতা সরকারের আমলে নন্দন প্রেক্ষাগৃহে ব্রাত্য ছিল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই রাতারাতি বদলে গেল টলিপাড়ার সমীকরণ। দর্শকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবশেষে সসম্মানে নন্দনে ফিরছে ‘অপরাজিত’। আগামী ৫ থেকে ৭ জুন নন্দন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির বিশেষ পুনঃপ্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার।
শুভেন্দুবাবুকে মেসেজ জীতুর, মাত্র ২০ মিনিটে মিলল সবুজ সংকেত!
‘অপরাজিত’ ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের আদলে তৈরি ‘অপরাজিত রায়’ চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি বাঙালির মন জয় করে নেওয়া অভিনেতা জীতু কামাল এই খবর সামনে আসতেই আবেগঘন হয়ে পড়েছেন। ছবিটিকে নন্দনে ফেরানোর পেছনে জীতু নিজেও বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জীতু বলেন, “এই ফেরাটা আমার কাছে অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! অনীকদা যেদিন চলে গেলেন, তার পরের দিনই আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবুকে পার্সোনাল মেসেজ করেছিলাম। মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই উনি উত্তর দেন। উনি জানান, প্রযোজক এবং পরিচালকের পরিবার রাজি থাকলে ‘অপরাজিত’কে নন্দনে ফেরাতে কোনো আপত্তি নেই। এরপর সোমবার আমি ফের একবার খোঁজ নিই, আর চব্বিশ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই আজ অফিশিয়ালি জানানো হলো যে ছবিটা ফিরছে।”

স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বড় জয়
২০২২ সালে ছবিটির মুক্তির সময় রাজনৈতিক তরজার কারণে নন্দনে শো না পাওয়া নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। পরবর্তীতে একবার একটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সুবাদে মাত্র দু-দিনের জন্য নন্দনে দেখানো হয়েছিল এই ছবি। তবে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি বঞ্চনার সেই অধ্যায় এবার অতীত। চলচ্চিত্র মহলের মতে, বহু বাধা ও বিতর্কের পর নন্দনের পর্দায় অনীক দত্তর এই মাস্টারপিস ফিরে আসা আসলে বাংলা সিনেমার দর্শকদের আবেগ ও দীর্ঘদিনের স্বাধীন চেতনারই এক বিরাট জয়।
