আজকের দিনেবাংলার আয়না

ক্যানিংয়ে বিপুল কার্তুজ উদ্ধার! শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ নেতার কীর্তি ফাঁস?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ক্যানিং: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বেআইনি টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা এবং নানাবিধ নথি উদ্ধারের ঘটনা অব্যাহত। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং। ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জীবনতলা থানার কালিকাতলা এলাকায় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো দূরপাল্লার রাইফেলের বিপুল পরিমাণ কার্তুজ ও ব্যবহৃত খোল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

তালপাতা সরাতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের

মঙ্গলবার দুপুরে নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে জীবনতলার কালিকাতলা এলাকায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা জবেদ শেখের বাড়িতে হানা দেয় জীবনতলা থানার পুলিশ। তল্লাশি চালানোর সময় বাড়ির পাশে স্তূপাকার করে রাখা তালপাতা সরাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের।

  • উদ্ধার হওয়া সামগ্রী: সেখান থেকে দূরপাল্লার রাইফেলের মোট ৭৫টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে।

  • খোল উদ্ধার: কার্তুজের পাশাপাশি প্রায় শতাধিক ব্যবহৃত কার্তুজের খোলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এই বিপুল পরিমাণ কার্তুজ মেলার পর পুলিশের অনুমান, বাড়ির আশেপাশে বা অন্য কোনো গোপন ডেরায় আরও বড় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে তল্লাশি অভিযানের সময় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা জবেদ শেখ বাড়িতে ছিলেন না। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ জবেদ, রয়েছে একাধিক অপরাধের রেকর্ড

এলাকায় জবেদ শেখ অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ক্যানিং পূর্বের তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। স্থানীয় স্তরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

  • সন্ত্রাস সৃষ্টি: অভিযোগ, জবেদের নেতৃত্বে এলাকায় বিভিন্ন সময়ে তৃণমূলের তরফে রাজনৈতিক অশান্তি ও গণ্ডগোল পাকানো হতো।

  • গুরুতর অপরাধ: জমি দখল, তোলাবাজি এবং একাধিক জায়গায় গুলি চালানো ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এই অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে এখনো পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পুলিশের কাছে আরও তল্লাশির দাবি বিজেপির

তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে এই মিনি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের পর সুর চড়িয়েছে বিজেপি। এলাকায় আরও বহু বেআইনি বন্দুক ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা আছে বলে দাবি করেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা।

স্থানীয় বিজেপি নেতা সুমন হালদার এই প্রসঙ্গে বলেন, “জবেদ শেখের বিরুদ্ধে এলাকায় গুলি চালানো, জমি দখল, তোলাবাজি এমনকি খুন করার মতো বহু গুরুতর অভিযোগ আছে। আমরা চাই ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকার যেখানে যেখানে এই ধরনের বেআইনি বন্দুক ও গোলাবারুদ লুকিয়ে রাখা আছে, পুলিশ অবিলম্বে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে সেগুলি উদ্ধার করুক এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করুক।”

ক্ষমতা বদলের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধার হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলি কোনো বড়সড় নাশকতার উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *