আজকের দিনেতিলোত্তমা

নবান্ন থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা নিয়ে চলা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ নবান্ন থেকে এই মেগা প্রকল্পের অফিশিয়াল ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফর্ম প্রকাশের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্য জুড়ে অফিশিয়ালভাবে শুরু হতে চলেছে এই ফর্ম ফিলআপের প্রক্রিয়া, যা আগামী ৯০ দিন ধরে চলবে。

ফর্ম প্রকাশের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা বেআইনিভাবে টাকা পাচ্ছিলেন বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই, ফর্ম মিলবে বাড়ি বাড়ি

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপের জন্য কোথাও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই。 কারণ, একদিনে সবার ফর্ম ফিলআপ করা সম্ভব নয়。

আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক রূপরেখা:

  • বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপ: বিডিও, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপের কাজ করবেন。

  • দ্বিমুখী মাধ্যম: আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই সম্পন্ন করা যাবে。

  • শীর্ষ আধিকারিকদের নজরদারি: গোটা প্রক্রিয়ার তদারকিতে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অর্থসচিব। এছাড়া জেলাশাসক, বিডিও এবং পুর কমিশনারদের এই কাজে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।

  • আধার কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি: ফর্ম যাচাইকরণ ও লিঙ্কিংয়ের কাজ নিখুঁত করতে বায়োমেট্রিক ও তথ্য যাচাইয়ের সাথে যুক্ত কর্মীদেরও এই প্রক্রিয়ায় শামিল রাখা হচ্ছে。

কারা পাবেন না ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মাসে ৩,০০০ টাকা?

মুখ্যমন্ত্রী আজ এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট ‘যোগ্যতামান’ এবং বাদের তালিকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবেন: ১. অভারতীয়: আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে। কোনো অভারতীয় এই সুবিধা পাবেন না। ২. আয়কর দাতা: আবেদনকারী মহিলা বা তাঁর পরিবার যদি আয়কর প্রদান করেন, তবে তিনি যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। ৩. সরকারি চাকরিজীবী: সরকারি বা সরকার পোষিত কোনো সংস্থায় কর্মরত মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না。

৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা বাদের মুখে: মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পান। তবে স্ক্রুটিনিতে দেখা গিয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ মহিলা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই সুবিধা নিচ্ছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে এই ভুয়ো নামগুলি চিরতরে বাদ দেওয়া হবে।

টাকা পাওয়ার সময়সীমা এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধের নিয়ম

মহিলাদের আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী টাকা দেওয়া ও প্রকল্প স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেছেন:

  • টাকা পাওয়ার দিনক্ষণ: যাঁরা আগামী ২ জুনের মধ্যে ফর্ম ফিলআপের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আগামী ৩ তারিখ থেকেই টাকা পাঠানো শুরু হবে。

  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কবে বন্ধ হবে?: অন্নপূর্ণা যোজনা চালু না হওয়া পর্যন্ত মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা নিয়ম মেনেই পাবেন。 তবে, অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ঢোকার সাথে সাথেই পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পরিষেবাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে。

‘আয়ুষ্মান ভারত’ নিয়ে বড় ঘোষণা

মুখ্যমন্ত্রী কেবল অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও বড় আপডেট দিয়েছেন。 তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর রেজিস্ট্রেশন এবং পোর্টালে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই উপভোক্তাদের হাতে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন— যতদিন না আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড বিলি সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততদিন ‘স্বাস্থ্যসাথী’র পরিষেবা আগের মতোই সচল থাকবে। সরকারের মূল লক্ষ্য, মহিলাদের কেবল আর্থিক সুবিধাই দেওয়া নয়, বরং তাঁদের নানাবিধ কেন্দ্রীয় কল্যাণমুখী স্কিমের সাথে যুক্ত করা。

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *