Washington-Delhi : চিনা ‘আগ্রাসনে’ দিল্লির পাশে ওয়াশিংটন; জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠকে ‘কৌশলগত অংশীদার’ বার্তা মার্কো রুবিওর !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- চিনের বাড়তে থাকা আগ্রাসনের আবহেই ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দিল আমেরিকা। দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানালেন, ভারত শুধু বন্ধু নয়, ওয়াশিংটনের কৌশলগত অংশীদারও।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ‘কোয়াড অস্ত্রে’ শান দিয়েছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। রবিবার দিল্লিতে তিনি মুখোমুখি হন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের। বৈঠক শেষে রুবিও বলেন, “আমেরিকা-ভারত শুধু বন্ধু নয়। দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারও। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করি। কিন্তু কৌশলগত অংশীদারত্ব একটি ভিন্ন বিষয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বিশ্বের বড় গণতন্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। আমাদের এত বেশি অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে যে, তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে যৌক্তিক।”
কূটনৈতিক মহলের মতে, রুবিওর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। দক্ষিণ চিন সাগর থেকে তাইওয়ান প্রণালী পর্যন্ত বেজিংয়ের আগ্রাসী অবস্থান এখন আমেরিকার প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তার উপর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের নৌ ও সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে কাছে টেনে চিনকে বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে ওয়াশিংটন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হওয়ার পাশাপাশি ভারত এখন দ্রুত উত্থানশীল অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তি। অন্যদিকে, ভারত-চিন সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে আমেরিকার কৌশলগত চিন্তাভাবনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সব মিলিয়ে চিনের ‘ড্রাগন-ভীতি’ সামলাতে ভারতকেই এখন প্রধান ভরসা হিসেবে দেখছে আমেরিকা। কোয়াড থেকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক— প্রতিটি পদক্ষেপেই দিল্লিকে কাছে টানার ইঙ্গিত স্পষ্ট। রুবিওর ‘কৌশলগত অংশীদার’ মন্তব্য সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করল। আগামী দিনে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমীকরণে এই ভারত-মার্কিন বোঝাপড়া বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে বলেই মত কূটনীতিকদের।
