দেবরাজের ছায়াসঙ্গী ‘ননী’ গ্রেপ্তার, বারাসাত আদালতে পেশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- রঘুনাথপুরে প্রোমোটারকে বন্দুকের বাট-রড দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগে এবার জালে বিধাননগর পুরসভার MIC দেবরাজ চক্রবর্তীর ছায়াসঙ্গী অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননী। বুধবার তাকে বারাসাত আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। এই মামলায় আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। বাগুইআটি থানা অন্তর্গত রঘুনাথপুরের প্রোমোটার কিশোর হালদারের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করে অভিযুক্তরা। ভয়ে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে দেন কিশোর। কিন্তু বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, বন্দুকের বাট এবং লোহার রড দিয়ে মেরে তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি। এরপরই বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কিশোর হালদার।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে প্রথমে বিধাননগরের নয় নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জেরায় উঠে আসে একাধিক নাম। সেই সূত্র ধরেই এবার গ্রেপ্তার হলেন দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননী। উল্লেখ্য, দেবরাজ রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী।
এর আগেও দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছে বর্তমান শুভেন্দু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, কোনওরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। গত ১১ দিনে দেবরাজ-সহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। দেবরাজ নিজেও বর্তমানে পুলিশের জালে।
ধৃত অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননীকে আজ বারাসাত আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায়। তদন্তকারীদের অনুমান, এই তোলাবাজি চক্রের পিছনে আরও বড় মাথা রয়েছে। দেবরাজের সঙ্গে ননীর আর্থিক লেনদেন, জমি-বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যোগ এবং শাসকদলের আর কোনো নেতা-কর্মী জড়িত কি না, সবটাই খতিয়ে দেখছে বাগুইআটি থানার পুলিশ।
