সুরক্ষার আড়ালে বিপদ? তীব্র গরমে শিশুর মাথায় টুপি পরানোর আগে যা জানা জরুরি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- দেশজুড়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। বাড়ছে গরম আর অস্বস্তি। ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই। কড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। রোদ ও হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাতে ঘরের বাইরে বের করার সময় বাবা-মায়েরা শিশুদের মাথায় টুপি পরিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুরক্ষার এই চাদরের আড়ালে অজান্তেই আমরা শিশুর বড় কোনো ক্ষতি করছি না তো? ভুল নিয়মে বা ভুল টুপি ব্যবহারের কারণে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
কেন গরমের দিনে টুপির ব্যবহার নিয়ে ভাবছেন চিকিৎসকেরা?
সাধারণত মনে করা হয়, মাথায় টুপি দিলে রোদ সরাসরি মাথায় লাগে না। এটি আংশিক সত্য হলেও, এর একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াটি বড়দের চেয়ে ভিন্ন।
-
শরীরের তাপমাত্রা আটকে যাওয়া: মানুষের শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা তাপ মূলত মাথা দিয়ে বের হয়ে যায় (Thermoregulation)। আমরা যদি শিশুকে এমন টুপি পরাই যা দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে না, তবে মাথার গরম ভেতরেই আটকে থাকে। এর ফলে শিশুর শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়ে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
-
ত্বকের সংক্রমণ ও অ্যালার্জি: বাজারে হরেক রকমের বাহারি টুপি পাওয়া যায়, যার বেশিরভাগই সিন্থেটিক বা প্লাস্টিক মিশ্রিত কাপড়ের। এগুলো পরলে মাথা অতিরিক্ত ঘেমে যায়। এই ঘাম মাথার ত্বকে বসে ঘামাচি, চুলকানি, খুশকি এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সৃষ্টি করে।
-
রক্ত সঞ্চালনে বাধা: অনেক টুপিতে শক্ত ইলাস্টিক বা ফিতা থাকে। দীর্ঘক্ষণ এই টাইট টুপি পরে থাকলে শিশুর মাথার কোমল রক্তনালীতে চাপ পড়ে, যা থেকে মাথাব্যথা এবং শিশু খিটখিটে হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ: কী করবেন এবং কী করবেন না?
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, রোদ থেকে বাঁচতে টুপি অবশ্যই কার্যকরী, তবে তা হতে হবে বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে। বাবা-মায়েদের সচেতনতার জন্য একটি নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:
বিশেষজ্ঞের বক্তব্য:
“একদম নবজাতক বা কয়েক মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে থার্মোরেগুলেশন বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি হয় না। তাই তীব্র রোদে (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা) তাদের বাইরে না বের করাই শ্রেয়। একান্তই বের হতে হলে টুপির চেয়ে ছাতা বা প্র্যামের (Pram) ওপরের শেড ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। আর বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে টুপি কেনার সময় ফ্যাশন নয়, কাপড়ের আরামদায়কতার দিকে নজর দিতে হবে।”
এক নজরে দেখে নিন কি করবেন আর কি করবেন না
- ১০০% সুতি এবং হালকা রঙের টুপি বেছে নিন, যা সহজে ঘাম শুষে নেয় এবং বাতাস চলাচল করতে দেয়।
- সিন্থেটিক, পলিয়েস্টার বা জর্জেট কাপড়ের টুপি গরমের দিনে একদমই পরাবেন না।
- চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করুন, যা শিশুর চোখ, মুখ ও ঘাড়কে ছায়া দেয়।
- কপালে দাগ ফেলে দেয় এমন অতিরিক্ত টাইট বা ইলাস্টিকযুক্ত টুপি পরানো থেকে বিরত থাকুন।
- গাড়ি, শপিং মল বা ছায়ার নিচে এলে অবিলম্বে টুপি খুলে দিন, যাতে মাথা বাতাস পায়।
- ঘরের ভেতর বা এসির মধ্যেও দীর্ঘ সময় শিশুকে টুপি পরিয়ে রাখবেন না।
- শিশুর মাথা ঘেমে গেলে দ্রুত টুপি খুলে মাথা ও ঘাড় মুছে দিন।
- ঘামে ভেজা টুপি দীর্ঘক্ষণ মাথায় রেখে দেবেন না, এতে ঠাণ্ডা লাগতে পারে।
অবশ্যই মনে রাখতে হবে:
রোদ থেকে বাঁচাতে শিশুকে টুপি পরানোয় কোনো ক্ষতি নেই, যদি টুপি নির্বাচন এবং ব্যবহারের নিয়মটি সঠিক হয়। একটু অসচেতনতা যেখানে শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে, সেখানে সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই টুইপই হতে পারে রোদের বিরুদ্ধে শিশুর প্রকৃত রক্ষাকবচ। তাই ফ্যাশন কিংবা অন্ধ অনুকরণ নয়, গরমে শিশুর স্বস্তিই হোক প্রধান অগ্রাধিকার।
