মাধ্যমিকের প্রথম দিনেই ভুয়া পরীক্ষার্থী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতেই প্রথম দিনেই রাজ্যের এক পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। খড়্গপুরের একটি মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার সময় এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজ্যজুড়ে যখন লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, ঠিক সেই দিনই এই অনিয়মের ঘটনা সামনে আসে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড ও পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখার সময় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মীদের সন্দেহ হয় এক যুবকের আচরণ নিয়ে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
সন্দেহ আরও বাড়ায় ওই যুবকের দেওয়া তথ্য এবং অ্যাডমিট কার্ড খতিয়ে দেখা হয়। এরপর বিস্তারিতভাবে কাগজপত্র যাচাই করা হলে বোঝা যায়, সে আসলে প্রকৃত পরীক্ষার্থী নয়। অন্য একজন পরীক্ষার্থীর হয়ে সে পরীক্ষা দিতে এসেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় এবং বিষয়টি পুলিশ ও উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরীক্ষাকেন্দ্র চত্বরে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়, যদিও কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনার পর পুলিশ ওই ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। কীভাবে সে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করল, কারা তাকে সাহায্য করেছে এবং এর পেছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, পরীক্ষাব্যবস্থায় কোথাও কোনও গাফিলতি হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, এমন ঘটনা রুখতেই এ বছর প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তার ফলেই এই ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এ বছর পশ্চিমবঙ্গে মোট ২,৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রায় ৯ লক্ষ ৭১ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লক্ষ ২৬,৭৩৩ জন এবং ছাত্রী ৫,৪৪,৬০৬ জন। এক জন তৃতীয় লিঙ্গভুক্ত পরীক্ষার্থীও আছে। মোট ২৬৮২টি স্কুলে পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, ইয়ার প্লাগ ও কোনও রকম ব্লুটুথ নিয়ে যাতে প্রবেশ না করে তা সুনিশ্চিত করছে পুলিশ
রাজ্য সরকার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও পুলিশ প্রশাসন মিলিয়ে পরীক্ষাকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই প্রথম দিনেই ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়ার ঘটনায় প্রশাসনের সতর্কতা যেমন সামনে এসেছে, তেমনই পরীক্ষার পবিত্রতা বজায় রাখতে আরও কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে উঠে এসেছে। এই ঘটনার পর বাকি পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
