এসআইআর শুনানির আতঙ্কে পরিযায়ী শ্রমিকের আত্মহত্যা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে চরম মর্মান্তিক ঘটনা। স্ত্রীর শুনানির ডাক পাওয়ার পর থেকেই দেশছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় প্রবল আতঙ্কে ভুগছিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। সেই আতঙ্ক থেকেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে পুলিশ। মৃতের নাম চান্দু সরকার। তিনি ইটাহার থানার অন্তর্গত পরিরাজপুর পঞ্চায়েতের মুরালিপুকুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক চান্দুর স্ত্রী জিন্নাতুন বিবিকে বৃহস্পতিবার ইটাহার হাইস্কুলে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে শুনানিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জিন্নাতুন বিবি। সেই সময় বাড়িতে স্বামীকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির অদূরে একটি বাগানের গাছে চান্দু সরকারের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ইটাহার হাইস্কুলে চলতে থাকা শুনানি বন্ধ করে দেন। বিক্ষোভকারীরা মৃতদেহ নিয়ে ইটাহার চৌরাস্তা অবরোধ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টার পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন। মৃতের বাবা মোবারক হোসেন জানান, “বউমার শুনানির জন্য আজ যাওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে ছেলে মানসিক চাপে ছিল। ও ভয় পাচ্ছিল, কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিণতি হবে ভাবতে পারিনি।”
পুলিশ জানায়, ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
