ভারতের কাছে পর্যুদস্ত হয়ে ক্ষতে প্রলেপ দিতেই আফগানিস্তানে হামলা? বিস্ফোরক দাবি টিটিপির
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্কঃ ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় আর বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা হওয়া—এই জোড়া ধাক্কা সামলাতে না পেরে নিজেদের ‘বীরত্ব’ জাহির করতে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। সম্প্রতি তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান-এর মুখপত্র ‘মুজাল্লাহ তালিবান’-এ প্রকাশিত একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির ভারতের কাছে মার খাওয়ার পর নিজের মুখ রক্ষা করতেই আফগানিস্তানকে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
‘অপারেশন সিঁদুরে’ বিপর্যস্ত পাকিস্তান
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ধাক্কায় খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল পাক সামরিক প্রতিরোধ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার কড়া জবাব দিতে ৭ মে ভারত সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের আঁতুড়ঘর গুঁড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে পালটা হামলার চেষ্টা করলে ভারতীয় বাহিনীর হাতে ব্যাপক মার খায় পাক সেনারা। তছনছ হয়ে যায় একাধিক পাক সামরিক ঘাঁটি।
ক্ষত ঢাকতে ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’
দিল্লি যখন বিশ্বজুড়ে সমর্থন পাচ্ছিল, তখন আসিম মুনির নিজের দেশে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং সেনার মনোবল ফেরাতে এক অদ্ভুত কৌশল নেন। টিটিপির দাবি:
- সহজ লক্ষ্যবস্তু: ভারতের মোকাবিলা করতে না পেরে মুনির আপাতদুর্বল আফগানিস্তানের ওপর হামলা চালিয়ে সামরিক সাফল্যের ‘ঢাক’ পেটাতে চেয়েছিলেন।
- সাধারণ মানুষের মৃত্যু: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের শতাধিক নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়।
- মিথ্যে অজুহাত: পাকিস্তান দাবি করেছিল যে সীমান্তের ওপার থেকে আসা ‘উস্কানিমূলক গুলির’ জবাবে এই হামলা। কিন্তু টিটিপির দাবি, পাকিস্তানই প্রথমে হামলা শুরু করেছিল।
আমেরিকার কাছে ‘নম্বর’ বাড়ানোর চেষ্টা?
রিপোর্টে আরও একটি বিস্ফোরক দিক তুলে ধরা হয়েছে। টিটিপির দাবি, এই হামলার নেপথ্যে ছিল আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের পুরনো ‘আঁতাত’ ঝালিয়ে নেওয়া। ওয়াশিংটনের সুনজরে আসা এবং আর্থিক সাহায্যের (ভিক্ষার) রাস্তা পরিষ্কার করতেই আফগানিস্তানের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে আসিম মুনির প্রশাসন। অর্থাৎ, সন্ত্রাস দমন নয়, বরং মার্কিন তুষ্টিই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
“আসিম মুনির আসলে ‘বাঁশবনের শিয়াল রাজা’র মতো আচরণ করছেন। ভারতের সামনে দাঁড়ানোর সাহস না পেয়ে আফগান সীমান্তে নিজের কৃতিত্ব জাহির করার নির্লজ্জ চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।” — মুজাল্লাহ তালিবান
এই রিপোর্ট সামনে আসার পর ফের প্রমাণিত হলো যে, পাকিস্তান নিজের সামরিক ব্যর্থতা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ঢাকতে বারবার যুদ্ধের পথ বেছে নিচ্ছে, যার মাসুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
