গ্রীন রুম

এক ফ্রেমে তিন প্রজন্ম

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নতুন বছরের শুরুতেই এক অন্যরকম খুশির খবর টলিপাড়ায়। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াল ওস মল্লিক। কাঞ্চন মল্লিক ও পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র ওস অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করল শর্ট ফিল্ম ‘আকাশপ্রদীপ’-এর মাধ্যমে। ছোটপর্দা বা থিয়েটার নয়, সরাসরি শর্ট ফিল্মেই তার অভিনয়যাত্রার সূচনা।

এই আত্মপ্রকাশ শুধু একটি নতুন মুখের আগমন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের গল্পও। কাঞ্চন-পিঙ্কির বিচ্ছেদের পর থেকে মায়ের কাছেই বড় হয়ে উঠেছে ওস। তবু নামের সঙ্গে আজও রয়ে গেছে বাবার পদবী। এবার সেই নামই উঠছে সিনেমার ক্রেডিটে। ছেলের প্রথম কাজ ঘিরে পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখেমুখে স্পষ্ট গর্ব ও আবেগ।

এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ প্রথমবার ছেলের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিচ্ছেন পিঙ্কি নিজেও।পাশাপাশি রয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। একই ছবিতে তিন প্রজন্মের শিল্পীর অভিনয় বাংলা শর্ট ফিল্মে বিরল ঘটনা।

ছেলের প্রথম অভিনয় অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে পিঙ্কি জানান,“২০২৫ সাল থেকেই ছবিটার প্রস্তুতি শুরু হয়। এই ছবিটা আমরা শুধু শ্যুট করিনি, আমরা যাপন করেছি। এটা আমাদের পরিবারের কাছে লকারে তুলে রাখার মতো অমূল্য সম্পদ। আমি, মামনি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় আর আমার ছেলে তিন প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করেছি।”

পরিচালক কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেই এই ছবির জন্ম। পিঙ্কির কথায়, “উনি প্রথমে আমার আর মামনির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। ওসকে দেখে ওঁর পছন্দ হয়। ছবিতে একটি শিশুচরিত্র দরকার ছিল। কিন্তু ওস নিজেই বলে, অডিশন দেবে। পাশ করলে তবেই কাজ করবে। সেটাই হয়েছে।”

ছোট বয়স থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ওসের। স্কুলের নাটক ও থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকাই তাকে ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তবে অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চান পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,“শিল্পী অর্গ্যানিক্যালি গ্রো করে। অভিনয়ের বর্ণপরিচয় হল থিয়েটার। একটা গাছকে কারবাইট দিলে বড় করা যায়, কিন্তু তার ফল মিষ্টি হয় না। এখন ও পড়াশোনা করছে, সেটাই আগে। পড়াশোনা ছেড়ে দিলে অনেক দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মনের জানলাগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। আগে মানুষ হিসেবে তৈরি হোক, দায়িত্ববান হোক। তারপর যদি মনে হয় অভিনয়ই পেশা হবে, তখন সিদ্ধান্ত নেবে।”

এই ছবিতে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও আলাদা গুরুত্ব বহন করে। নাতনির ঘরের পুতির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছেও নতুন ও আনন্দের। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর পডকাস্টও সমান জনপ্রিয়।

আগামী ২৫ জানুয়ারি, কলকাতার রোটারি সদনে আয়োজিত শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে ‘আকাশপ্রদীপ’। এই ছবির মাধ্যমেই শর্ট ফিল্মে আত্মপ্রকাশ করছেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।
পিঙ্কির কথায়, এই ছবি তাঁদের পরিবারের কাছে শুধুই একটি কাজ নয়, আজীবনের স্মৃতি। তিন প্রজন্মের শিল্পী এক ফ্রেমে এই অভিজ্ঞতা খুব কম পরিবারই পায়। ‘আকাশপ্রদীপ’ তাই শুধু একটি শর্ট ফিল্ম নয়, আলো-ছায়ায় ধরা পড়া এক পারিবারিক গল্পও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *