‘কাজ দিন, উপহাস করবেন না’: ট্রোলের মুখে বিস্ফোরক ‘আশিকি’ খ্যাত রাহুল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বিনোদন ডেস্ক: নয়ের দশকের সেই চকোলেট বয় ইমেজ, লম্বা চুল আর ‘আশিকি’র সেই কালজয়ী গান— আজও সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন রাহুল রয়। কিন্তু পর্দার রোম্যান্টিক হিরোর বাস্তব জীবন যে কতটা কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সম্প্রতি তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেই স্পষ্ট হয়ে গেল। ট্রোলের শিকার হয়ে নীরবতা ভেঙে কড়া জবাব দিলেন অভিনেতা।
ঠিক কী নিয়ে বিতর্ক?
সম্প্রতি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ডঃ বনিতা ঘাড়্গে দেশাইয়ের সঙ্গে একটি ইন্সটগ্রাম রিল ভিডিওতে দেখা যায় রাহুল রয়কে। সেখানে ১৯৯৩ সালের নিজেরই সুপারহিট ছবি ‘ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ি’-র জনপ্রিয় গান ‘তেরে দর পে সনম’-এ রোম্যান্টিক মুডে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে নিয়ে বিদ্রূপ শুরু করেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এই বয়সে বা শারীরিক অবস্থায় এমন ভিডিও করার কী প্রয়োজন ছিল?
‘আর্থিক চাহিদা মেটাতেই এই পথ’: রাহুলের জবাব
সমালোচনার তির ধেয়ে আসতেই নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে দীর্ঘ এক পোস্ট করেন রাহুল। তিনি স্পষ্ট জানান, শখ নয় বরং জীবনের প্রয়োজনে এবং আইনি লড়াইয়ের খরচ মেটাতেই তিনি কাজ করছেন। রাহুলের কথায়: “আমি আমার কাজ অত্যন্ত সততা ও বিনয়ের সঙ্গে করি। আমাকে প্রচুর আইনি খরচ বহন করতে হয়। এই লড়াই আমার ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার আগে থেকেই চলছে।”
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আপনারা যদি আমার সংগ্রামকে উপহাস করেন, তবে সেটা আপনাদের রুচির পরিচয়। যদি সত্যিই আমার জন্য এত চিন্তা থাকে, তবে আমাকে কাজ দিন। আমি সৎ পথে উপার্জনে বিশ্বাসী, কারও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে উপহাস করে নয়।”
লড়াইয়ের নামই জীবন
২০২০ সালে ব্রেন স্ট্রোকের পর দীর্ঘ সময় হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল রাহুলকে। সেই ধাক্কা সামলে আজও তিনি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিনেতা জানান, কাজ করাটা তাঁর কাছে থেরাপির মতো। এতে তাঁর মন সক্রিয় থাকে। তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে কষ্ট হয় ঠিকই, কিন্তু আমার মনের জোর ভাঙা সম্ভব নয়। যতদিন বেঁচে আছি, মাথা উঁচু করে কাজ করে যেতে চাই।”
গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে কানু বহেল পরিচালিত ‘আগরা’ ছবিতে রাহুলের অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ছবিটি ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। বর্তমানে রাহুল রয় প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, গ্ল্যামার জগত থেকে সাময়িক অন্তরালে গেলেও লড়াকু মানসিকতায় তিনি আজও পর্দার সেই ‘আশিকি’ হিরো।
