আজকের দিনেতিলোত্তমা

আজই বিধানসভায় UCC বিল! বহুবিবাহে ইতি, লিভ ইনেও এবার আইনের ফাঁস

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- ক্ষমতায় এসেই মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির। সোমবার বিধানসভায় উঠছে বহুচর্চিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। পাশ হলেই ধর্ম-বর্ণ ভুলে বিয়ে থেকে সম্পত্তি, সব চলবে এক আইনে। বহুবিবাহে তালা, লিভ ইনেও এবার সরকারি নজরদারি। শুভেন্দু সরকারের এই বিলে পাল্টে যাবে বাংলার সামাজিক সমীকরণ।

১. এক দেশ, এক বিয়ের আইন:
হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট হোক বা শরিয়া আইন, সব বাতিল। এবার থেকে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ের একটাই নিয়ম। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বিয়ে অবৈধ। বিবাহিত থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে করলেই ফাঁসবে আইনের জালে। পুরুষের বয়স ২১, মহিলার ১৮ না হলে বিয়ে নয়। সামাজিক বিয়ের পর ৬ মাসের মধ্যেই সরকারি খাতায় নাম তুলতে হবে।

২. সম্পত্তিতে সমান অধিকার, মেয়েরা আর বঞ্চিত নয়:
এতদিন ধর্মের দোহাই দিয়ে মেয়েদের সম্পত্তি থেকে সরিয়ে রাখা হত। এবার সেই দিন শেষ। বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে সবার সমান ভাগ। বিধবা স্ত্রীও স্বামীর সম্পত্তির পূর্ণ অধিকার পাবেন। পুত্র-কন্যার মধ্যে আর কোনও ভেদাভেদ থাকবে না।

৩. লিভ ইন আর গোপন থাকবে না:
প্রেম করলেই হবে না, সরকারকে জানাতে হবে। লিভ ইন সম্পর্ক রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক। রেজিস্ট্রি না করালে ৬ মাসের জেল। সঙ্গী নাবালক হলে বাবা-মায়ের সই লাগবে। বাল্যবিবাহ আর প্রতারণার রাস্তা বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি, দাবি বিজেপির।

৪. আদিবাসীদের ভাগ্য ঝুলে, চূড়ান্ত নয় এখনও:
UCC-র আওতায় আদিবাসীদের রাখা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। অসমের মতো বাংলাতেও জনজাতিদের ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শমীক ভট্টাচার্য ইঙ্গিত দিয়েছেন ছাড় মিলতে পারে, কিন্তু বিল পেশের পরই খুলবে জট। আপাতত নজর রাখছে আদিবাসী মহল।

৫. দেশজুড়ে UCC-র ঢেউ:
উত্তরাখণ্ড, গুজরাট, অসমের পর এবার বাংলা। মধ্যপ্রদেশে খসড়া রেডি। লাইনে আছে ছত্তিশগড়, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশও। ফৌজদারি আইনের পর এবার দেওয়ানি বিধিতেও এক দেশ, এক নিয়মের পথে হাঁটছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি।

বিরোধীদের তীব্র আপত্তি উড়িয়েই UCC আনতে মরিয়া শুভেন্দুর সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন মহিলাদের হাতে তুলে দেবে বিয়ে, ডিভোর্স ও সম্পত্তির চাবিকাঠি। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, নিয়ম ভাঙলে শাস্তিটা কতটা কঠোর হবে? সেই উত্তর লুকিয়ে আছে বিলের পাতায়। নজর এখন বিধানসভার দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *