রুশ তেল কেনার ‘ছাড়পত্র’ বাতিল আমেরিকার, তবুও ট্রাম্পের মুখে মোদি-বন্দনা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি: একদিকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র প্রত্যাহার করে ভারতকে চাপে ফেলা, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থানে সরগরম আন্তর্জাতিক রাজনীতি। গত মঙ্গলবার দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিটের ফোনালাপের পর বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোদিকে নিজের ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের মুখে মোদি-স্তুতি
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “মোদি আমার ভারতীয় বন্ধু। ওঁর সঙ্গে আমার বেশ ভালোই কথা হয়েছে। তিনি দারুণ আছেন এবং খুব ভালো কাজ করছেন।” মঙ্গলবার রাতের সেই দীর্ঘ ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে সুরক্ষিত রাখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মোদি নিজেই ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে জানিয়েছিলেন।
ছাড়পত্র প্রত্যাহারে বাড়ল সংকট
ট্রাম্পের মুখে বন্ধুত্বের বাণী শোনা গেলেও বাস্তবের ছবিটা ভারতের জন্য কিছুটা কঠিন। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রুশ ও ইরানি তেল কেনার জন্য ভারতকে যে বিশেষ ‘জেনারেল লাইসেন্স’ বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।
-
কেন এই ছাড় ছিল? ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জ্বালানি সংকট এড়াতে আমেরিকা এই সাময়িক ছাড় দিয়েছিল।
-
বর্তমান পরিস্থিতি: আমেরিকার দেওয়া এই ছাড়ের সুযোগে ভারত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছে। কিন্তু সেই অনুমতির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় এখন থেকে রুশ বা ইরানি তেল কিনলে ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার (Sanctions) কবলে পড়তে হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী ও ভারতের দুশ্চিন্তা
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হলো হরমুজ প্রণালী। ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ আসে এই পথ দিয়ে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে এই পথ অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানি তেল বিক্রিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ বা অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে ভারতের সহযোগিতা চাইছে।
বিশ্লেষণ
কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্প ব্যক্তিগত রসায়নে মোদির প্রশংসা করলেও জাতীয় স্বার্থে তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি থেকে একচুলও নড়ছেন না। রুশ তেলের দরজা বন্ধ করে দেওয়া ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় ধাক্কা। একদিকে তেলের আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে মস্কোর মতো পুরনো বন্ধুর থেকে সস্তায় তেল কেনার পথ বন্ধ হওয়া— এই দ্বিমুখী সংকটের মাঝে মোদি-ট্রাম্পের ‘বন্ধুত্ব’ কতটা রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
