আজকের দিনেবিশ্ব

Trump-Peace Agreement : ইজরায়েল-ইরান সংঘাতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা, শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্তের পথে !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- সাড়ে তিন মাসের সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ইঙ্গিত। লেবানন ইস্যুতে ইজরায়েল-ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, সম্মানজনক সমঝোতা হলে আলোচনাই পথ।

বিগত ২ মার্চ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ইজরায়েলের হামলায় লেবাননে মারা গেছেন ৩৭৮৩ জন, আহত ১১,৬৯৯। শেষ হামলায় নতুন করে ৩ জনের মৃত্যু ও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এই রক্তপাত থামাতে সক্রিয় হয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ইজরায়েলকে ইরান ও লেবাননে আর হামলা না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানকেও পালটা হামলা থেকে বিরত থাকতে বলবেন বলে জানিয়েছেন।

সূত্রের খবর, আমেরিকা-ইরান সমঝোতার খসড়া প্রায় তৈরি। খসড়ায় হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইরান এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ খুলে দেবে, আর আমেরিকা সব ধরনের অবরোধ তুলে নেবে। দুই দেশ স্বাধীন নৌচলাচলে একমত হয়েছে।

চুক্তি হলে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে আমেরিকা। নতুন করে কোনও নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হবে না। ফলে ইরান আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে পারবে। একইসঙ্গে আমেরিকা ইরানের বাজেয়াপ্ত করা ২৫ বিলিয়ন ডলারও ফেরত দেবে।

বিনিময়ে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা নতুন সেন্ট্রিফিউজ বসানোও বন্ধ রাখতে হবে। তবে আমেরিকা ইরানের শান্তিপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেবে। আইএইএ-র সঙ্গে মিলে ইরানকে সহায়তাও করবে।

প্রাথমিক চুক্তি সইয়ের পর ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হবে। খসড়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির কথাও আছে। ইরান বিদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবে। ভবিষ্যতে বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রবিবার চুক্তি সইয়ের কথা বললেও আমেরিকা এখনও সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মতো মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করছে। আমেরিকা ও ইরান কেউই সরকারিভাবে খসড়া নিয়ে মুখ খোলেনি। চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সমঝোতা সম্মানজনক না হলে ফের অশান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *