আজকের দিনেবাংলার আয়না

উন্নয়নের স্বার্থে শুভেন্দুর পাশে তৃণমূল বিধায়করা, মালদায় বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মালদহ :- মালদায় ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর’ বৈঠকে হাজির তৃণমূল-সিপিএম বিধায়করা, অভিষেককে নিশানা করে ক্ষোভ উগরে দিলেন বায়রন-সাবিনা
মালদায় প্রশাসনিক বৈঠকে চমক। ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী’র ডাকে সাড়া দিয়ে বৈঠকে হাজির তৃণমূল ও সিপিএম বিধায়করা। একদিকে শুভেন্দুর প্রশংসা, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূল বিধায়কদের ক্ষোভ। সই জাল কাণ্ডে অভিষেককে তলবের পরেই নতুন রাজনৈতিক জল্পনা উত্তরবঙ্গে।

প্রসঙ্গত, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী’। চমক দিয়ে সেই বৈঠকে হাজির হন সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস, সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন এবং ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান।

বৈঠকে এসে বিরোধী বিধায়কদের মুখে শোনা যায় শুভেন্দুর প্রশংসা। সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “উনি মালদার মাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার এসেছেন। ওনাকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। আমরা মালদার উন্নয়ন চাই। ওনার কাছে এক্সপেক্ট করব, আমরা ও ওরা না করে দিয়ে, উনি সবাইকে নিয়ে চলুক। আমরাও সহযোগিতা করব।”

বায়রন বিশ্বাস বলেন, “যখন তৃণমূলের সরকার ছিল, তখন আমার কিছু প্রয়োজন ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছিলাম, মালদায় কী কী লাগবে।”

অন্যদিকে সই জাল কাণ্ডে ইতিমধ্যেই তিনবার নোটিসের পর হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়কদের একাংশের সুর, “যিনি জাল করেছেন, সেক্ষেত্রে সঠিক বিচার হবে।”

বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মূ বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসকে মানুষ পুরোপুরি বিদায় দিয়েছে। বিসর্জনও দিয়েছে। এখন মমতা ও অভিষেক, তাঁরা এখন কোথায় যাবেন, কখনও ভাবছেন বাংলাদেশ যাই। একবার ভাবছে কংগ্রেসের পা ধরি। তৃণমূল কংগ্রেস যেটা সর্বনাশ করেছে মানুষের, এখন মানুষ ঠিক করে রেখেছে, তৃণমূল কংগ্রেসকে আর না।”

উন্নয়নের স্বার্থে শাসক-বিরোধী একমঞ্চে আসার ঘটনা বঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন। পালাবদলের পর এই দৃশ্য প্রতি জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গেছে। তবে বৈঠকের ফাঁকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তৃনমূল বিধায়কদের ক্ষোভ প্রকাশ এবং শুভেন্দুর প্রশংসা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সই জাল বিতর্কের পর তৃণমূলের অন্দরের এই ফাটল ২০২৬-এর আগে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *