ফের টলিপাড়ায় শোকের ছায়া, প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা, বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- টলিপাড়ায় একের অপর এক দুঃসংবাদ। ফের শোকের ছায়া।চির ঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ও বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত । শুক্রবার দুপুরে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন শিল্পী। জানা গিয়েছে, স্নায়ুতন্ত্রের অটোইমিউন সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকবার বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। তবে গত তিন মাস ধরে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। অভিনেতার স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত একথা জানান।
একাধারে তুখোড় অভিনেতা এবং অন্যদিকে তাঁর বাচিক শিল্পে মুগ্ধ ছিলেন অগণিত বাঙালি। বাংলা সিনেমা ও থিয়েটারের জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিপ্লব দাশগুপ্তের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকপ্রকাশ করেছেন শিল্পীরা। ইতিমধ্যেই প্রয়াত শিল্পীর বাসভবনে গিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা দাশগুপ্ত।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর পেশাগত জীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করতেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। তবে সৃজনশীলতার টানে পরবর্তীকালে তিনি সাহিত্য, নাট্যজগৎ ও ভারতীয় চলচ্চিত্র দুনিয়ায় পা রাখেন। ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট এবং বিজ্ঞাপন জগতে কাজের পর অভিনয়কেই নিজের মূল পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।
২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অফ টাইম’ ছবির মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় পথচলা শুরু হয়। এরপর ‘বাইশে শ্রাবণ’ (২০১১), ‘৮৯’ (২০১৫), ‘ফেলুদা’ (২০১৭) এবং ‘গুমনামি’ (২০১৯)-র মতো জনপ্রিয় ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে তাঁর বলিষ্ঠ অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে।
দীর্ঘ দুই দশকের অভিনয় জীবনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গেও কাজ করেন তিনি । ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে তাঁদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, মহানায়ক উত্তম কুমার এবং তাঁর ভাই তরুণ কুমারের সঙ্গেও গভীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল অভিনেতার। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর অনুরাগী ও সহকর্মীরা।
