বাংলার আয়নাআজকের দিনে

Saraswati-Bardhaman : তিনশো বছরের বেশি পুরনো হালদার বাড়ির সরস্বতী পুজো…..

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ব্লকের দিগনগর গ্রামে সরস্বতী পুজো মানেই একটু আলাদা কিছু। এখানে দেবী সরস্বতী একা আসেন না। তাঁর সঙ্গে পূজিত হন আরও ছয় জন দেবদেবী। প্রায় তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বিশেষ পুজো হয়ে আসছে হালদার পরিবারে।

পরিবারের কথায় জানা যায়, ১৭২১ সালে দিগনগরের হালদার পরিবারের নীলের ব্যবসা ছিল। সেই ব্যবসার কর্তা শ্রীনিবাস হালদার ছিলেন শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষ। তাঁর বিশ্বাস ছিল শিক্ষা আর জ্ঞানের জোরেই সাফল্য আসে। তাই তিনি বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পুজো শুরু করেন। সেই থেকেই এই পুজোর সূচনা। আজ তার বয়স প্রায় ৩০৫ বছর।

হালদার বাড়ির সরস্বতী প্রতিমা এক চালার। মাঝখানে থাকেন দেবী সরস্বতী। ডান পাশে থাকেন সখী জয়া ও ইন্দ্রদেব। বাঁ পাশে থাকেন সখী বিজয়া ও নারদ। চালচিত্রে দেখা যায় আরও দু’টি পরী। প্রতিমায় পটচিত্রের ছাপ স্পষ্ট। দেবীকে সাজানো হয় ডাকের সাজে।

বাড়ির বড় বউ নুপুর হালদার বলেন,“দেবীর নিজের সোনা-রুপোর গয়না আছে। পরিবারের লোকজন নিজের হাতেই সেই গয়না পরিয়ে দেবীকে সাজান।”

সাধারণত সরস্বতী পুজো একদিনের হলেও হালদার বাড়িতে পুজো চলে তিন দিন। মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমীতে পুজো শুরু হয়। সপ্তমীর দিন গোরুর গাড়িতে করে শোভাযাত্রার সঙ্গে দেবীর বিসর্জন দেওয়া হয়।

পুজোর এই নিয়ম কীভাবে শুরু হল? পরিবারের সদস্য উত্তম হালদার জানান,“শ্রীনিবাস হালদারের সময় থেকেই এই ধরনের প্রতিমা বানিয়ে পুজো হয়ে আসছে। আজও সেই নিয়ম বদলায়নি।”

পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। বর্তমানে শ্রীনিবাস হালদারের ষষ্ঠ প্রজন্ম এই পুজোর দায়িত্বে আছেন। পরিবারের বড় ছেলে পুষ্পেন্দু হালদার বলেন,“এই পুজোকে ঘিরে বাড়িতে খুব আনন্দ হয়। পুরনো নিয়ম মেনে ২৩ রকমের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। পুজোর শেষ দিন মহোৎসব হয়। গ্রামের সবাই আসেন, সবার জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এই তিন দিনে পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকি।” পরিবারের আর এক সদস্য অলক হালদার জানান, ঠিক কে এই পুজো শুরু করেছিলেন তা জানা নেই। তবে শোনা যায়, পরিবারের কোনও পূর্বপুরুষ বাইরে কোথাও এই রকম পুজো দেখে এসে এই প্রথা চালু করেন।

পুজোয় দেওয়া হয় চাল, ফল, বাতাসা, কদমা ও নানা ধরনের মিষ্টি। পরের দিনও নিয়ম মেনে পুজো হয়। তারপর বিসর্জন। পারিবারিক পুজো হলেও গ্রামের মানুষজনও এতে অংশ নেন। পুজোর সময় অনেক আত্মীয়স্বজন গ্রামে আসেন।

সময় বদলালেও আজও দিগনগরের হালদার বাড়িতে পুরনো রীতি মেনেই সরস্বতী পুজো হয়। তাই এই পুজো শুধু পরিবারের নয়, পুরো গ্রামের উৎসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *