দীর্ঘ ২৫ বছর পর ফের এক ফ্রেমে ঋতুপর্ণা-মমতা!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বিনোদন ডেস্ক: উত্তর কলকাতার এক প্রাচীন বনেদি বাড়ি। চুন-সুরকির দেওয়ালে যেন লেপ্টে রয়েছে বহমান সময়ের দলিল। কিন্তু আধুনিকতার ইঁদুরদৌড়ে আজ বিপন্ন সেই ঐতিহ্যের অস্তিত্ব। এই বনেদি বাড়িটিকে টিকিয়ে রাখার লড়াই এবং কলকাতার প্রবীণ নাগরিকদের একাকিত্বের অসহায়তা নিয়েই আবর্তিত হয়েছে পরিচালক অনুপ দাসের নতুন বাংলা ছবি ‘রেখা’। সম্প্রতি উত্তর কলকাতার বিভিন্ন অলিতে-গলিতে এবং বনেদি বাড়ির অন্দরে জোরকদমে চলছে এই ছবির শুটিং।
ছবির নামভূমিকায় অর্থাৎ ‘রেখা’র চরিত্রে অভিনয় করছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর। আর তাঁর সহায়িকা ‘বুলি’র চরিত্রে দেখা যাবে টলিউড ক্যুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে।
ঋতুপর্ণ ঘোষের স্মৃতি উস্কে দীর্ঘ ২৫ বছর পর একসঙ্গে
২০০০ সালে মুক্তি পেয়েছিল ঋতুপর্ণ ঘোষের কালজয়ী ছবি ‘উৎসব’। সেখানে একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন মমতা শঙ্কর ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। দীর্ঘ আড়াই দশক পর ‘রেখা’ ছবির হাত ধরে আবার একফ্রেমে ধরা দিচ্ছেন এই দুই শক্তিশালী অভিনেত্রী। শুটিংয়ের ফাঁকে পুরনো স্মৃতি ও আড্ডায় নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন দুজনেই।
শুধু অভিনয়ই নয়, এই ছবির নেপথ্যেও রয়েছে বড় চমক। ‘রেখা’র অন্যতম নিবেদক খোদ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাই শট দেওয়ার পাশাপাশি সেটের খুঁটিনাটি তদারকি করতেও দেখা যাচ্ছে তাঁকে। এই বাড়তি দায়িত্ব প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “আমি সিনেমাকে ভালোবেসে কাজ করি। সেখানে নিজের স্বার্থ বা লাভ-ক্ষতি আমি কখনই দেখি না।” ছবিতে চুলে লম্বা বেণী আর কপালে ছোট্ট টিপে একেবারে স্নিগ্ধ ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র লুকে ধরা দিয়েছেন ঋতুপর্ণা।
কাস্টিংয়ে বড় ধামাকা: ফিরছেন রিয়া সেন
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সি থেকে শুরু করে বনেদি বাড়ির উঠোন— শহরের বিভিন্ন চেনা লোকেশনে সিনেমার শ্যুটিং ঘিরে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে।
‘রেখা’ ছবির টিম প্রোফাইল:
- মুখ্য চরিত্র: মমতা শঙ্কর (রেখা) ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (বুলি)।
- বিশেষ আকর্ষণ: দীর্ঘ বিরতির পর এই ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় ফিরছেন রিয়া সেন।
- অন্যান্য কলাকুশলী: সায়ন মুন্সি, দুলাল লাহিড়ী, পাপিয়া সেন প্রমুখ।
“চরিত্রটা না করলে আক্ষেপ থেকে যেত”, আবেগঘন মমতা শঙ্কর
ছবিটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস লুকিয়ে রাখেননি মমতা শঙ্কর। তিনি বলেন, “এই চরিত্রটা না করলে আমার সারাজীবন বড় আক্ষেপ থেকে যেত। ছবিটা মুক্তির পর যদি দেখতাম আমি এর অংশ নই, তবে মনে হতো খুব বড় কিছু মিস করে গেলাম। এই চরিত্রটি পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।”
অন্যদিকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বুলির চরিত্রটি নিয়ে জানান, “এই গল্পের মধ্যে অনেক না-বলা বাস্তব কথা লুকিয়ে আছে। কলকাতার প্রবীণ মানুষদের একাকিত্বের গল্প আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার, যার সেরা মাধ্যম সিনেমা। বুলি চরিত্রটার মধ্যে অনেক শেড আছে। আশা করি দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে।” আপাতত ছবির কিছু অংশের শুটিং বাকি থাকলেও, তিলোত্তমার বুকেই দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে পুরো টিম।
