আজকের দিনেবিশ্ব

Quad Meeting-Delhi : দিল্লিতে কোয়াডের বৈঠক: সহযোগিতার বার্তা, কিন্তু আস্থার সংকট কাটল না !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত কোয়াডের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হল মঙ্গলবার ২ জুন ২০২৬, দিল্লিতে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল ও জ্বালানি নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, জোটের আস্থার সংকট কাটল না।

গত এক দশকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোয়াড অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। জোটের মূল লক্ষ্য ছিল একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলা। মঙ্গলবারের বৈঠকে চার দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং সমুদ্রপথের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে একমত হয়েছে।

ফিজিতে বন্দর নির্মাণ ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের মোকাবিলায় ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপগুলি গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামুদ্রিক নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

তবে ঐকমত্যের আড়ালে অস্বস্তিও স্পষ্ট। কোয়াডের অন্যতম প্রধান সদস্য আমেরিকা সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, চিনের সঙ্গে নতুন সমঝোতার চেষ্টা বা রাশিয়া নীতিতে একতরফা অবস্থান নিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কোয়াডের অন্য সদস্যদের ভূমিকা সীমিত। ফলে, কোয়াড সত্যিই সমমর্যাদার অংশীদারিত্বের মঞ্চ কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

ভারতের ক্ষেত্রে দ্বিধা আরও বেশি। একদিকে চিনের আগ্রাসী ভূ-রাজনীতির বিরুদ্ধে ভারসাম্য রাখতে কোয়াডকে দরকার। অন্যদিকে, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতি মেনে চলা ভারতের জন্য জোটে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে।

ভারতের স্বার্থে কোয়াডের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও জরুরি জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা। চার দেশ একই লক্ষ্যের কথা বলেও যদি ভিন্ন দিকে এগোয়, তবে কোয়াড কূটনৈতিক প্রতীক হয়েই থাকবে। পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয় থাকলে তবেই ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় কোয়াড কার্যকর শক্তি হয়ে উঠতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *