আজকের দিনেবিশ্ব

রুশ তেল আমদানিতে মার্কিন ‘অনুমতি’র দাবি ওড়াল নয়াদিল্লি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে যখন উদ্বেগের মেঘ ঘনাচ্ছে, ঠিক তখনই রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার তথাকথিত ‘অনুমতি’র বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নাকি ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় ওঠে। তবে শনিবার সকালেই ‘প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো’-র পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় বিবৃতি জারি করে এই ভ্রান্ত ধারণা ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে ভারত।

​পিআইবি-র বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভারত বর্তমানে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। আগে যেখানে ভারত মাত্র ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করত, এখন সেই পরিধি বাড়িয়ে ৪০টি দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারের সাফ কথা— “ভারত সেখান থেকেই তেল কিনবে যেখানে সস্তায় পাওয়া যাবে।” হরমজ প্রণালী বা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব যাতে দেশের ওপর না পড়ে, তার জন্য পর্যাপ্ত তেলের মজুত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

​রাশিয়া থেকে তেল কিনতে আমেরিকার অনুমতির প্রয়োজন— এই তত্ত্বকে পরিসংখ্যান দিয়ে নস্যাৎ করেছে ওয়াকিবহাল মহল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, ​ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করে।
​বর্তমানে রাশিয়ার থেকে দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল কেনা হচ্ছে। ​ভারতের মোট তেল আমদানির ২৫-৩০ শতাংশ আসে মস্কো থেকে। ​বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই মার্কিন অনুমতির প্রয়োজন হতো, তবে এই বিপুল পরিমাণ আমদানি কখনওই সম্ভব হতো না। পিআইবি জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ আরও ৪০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। এর ফলে ভারতের মোট আমদানির ৬৫-৭০ শতাংশ আসবে হরমজ ক্ষেত্রের বাইরের দেশগুলো থেকে।

​ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের রিফাইনারি বা তেল শোধন ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত উন্নত। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে সক্ষম ভারত। ফলে তেলের উৎস বদলালেও দেশের সাপ্লাই চেইনে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। ভারতের কূটনীতি ও বাণিজ্যিক অবস্থান অত্যন্ত স্বচ্ছ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত তার জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে সস্তায় রুশ তেল কিনে আসছে। এক্ষেত্রে ‘অনুমতি’ শব্দটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দরাদরি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি নিছক ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *