আজকের দিনেভারত

১২ ঘণ্টায় জোড়া খুন ও ধর্ষণ!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, রাজস্থান অপরাধের নৃশংসতা দেখে শিউরে উঠছেন দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি ধর্ষণের অভিযোগ, যার মধ্যে একটির ক্ষেত্রে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ রয়েছে। রাজস্থানের অলওয়ারের বাসিন্দা ২২ বছরের তরুণ রাহুল মিনার এই কাণ্ড দেখে হতবাক তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এত বড় অপরাধের পরও ধৃত তরুণের মধ্যে নেই কোনো অনুশোচনা, উল্টে নিজের কৃতকর্মের সপক্ষে অদ্ভুত ‘যুক্তি’ খাড়া করছে সে।

অপরাধের নেপথ্যে জুয়ার নেশা

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাহুল মিনা একসময় ওই বাড়িতে পরিচারকের কাজ করত। কিন্তু তার জুয়ার নেশা এবং পরিবারের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসতেই তাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ, জুয়ার টাকার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর ঋণ নিয়েছিল রাহুল। নিজের এই নেশার খরচ জোগাতেই সে চুরির মতলবে ওই বাড়িতে ঢুকেছিল।

নৃশংসতা ও খুনের ঘটনা

পুলিশের দাবি, রাহুল ওই বাড়ির একটি অতিরিক্ত চাবি ব্যবহার করে গোপনে ভেতরে ঢোকে। ঘরে একা পেয়ে ২২ বছরের এক ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক তরুণীকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে অচেতন করে দেয় সে। অচৈতন্য অবস্থাতেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এরপর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় নিজের রক্তমাখা পোশাক বদলে নির্যাতিতার ভাইয়ের জামাকাপড় পরে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে সর্বস্ব লুটে নেয় সে।

অনুতাপহীন অভিযুক্ত

তদন্তকারীদের মতে, রাহুলের আচরণ অত্যন্ত স্বাভাবিক। জেরায় সে জানিয়েছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল টাকা। তার কথায়, “দিদি টাকাটা দিয়ে দিলে এমনটা হতো না।” আবার পরক্ষণেই দাবি করছে, “সবকিছু এমনি এমনি ঘটে গেল।” অর্থাৎ, খুনের মতো ঘটনায় সে কার্যত দায় এড়াতে চাইছে।

যেভাবে জালে জড়াল রাহুল

এই ঘটনার রহস্য সমাধানে বড় ভূমিকা নেয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ দেখতে পায়, রাহুল একটি অটো করে পালিয়ে যাচ্ছে। সেই অটোর চালককে শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে যে, সে রাহুলকে একটি হোটেলে নামিয়ে দিয়েছিল। দেরি না করে পুলিশ সেই হোটেলে হানা দেয় এবং রাহুলকে গ্রেপ্তার করে।

বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। তাকে জেরা করে এই ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে যাওয়া অপর একটি ধর্ষণের ঘটনারও তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করার চেষ্টা করছে রাজস্থান পুলিশ। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ ও রাহুলের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *